Published : 26 Feb 2026, 10:47 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় তাদের বাদ দেওয়া হয় বলে ভাষ্য কর্তৃপক্ষের।
বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে বাছাই পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ৩৮ প্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি বাছাই কমিটি।
নিয়োগ পরীক্ষায় কেউই পাশ করেনি এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয় সমালোচনা। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রাম পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ন্যূনতম শিক্ষাগত ও সাধারণ জ্ঞানের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রশংসায় ভাসছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এ ছাড়া প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা জানিয়েছে বাছাই কমিটি।
এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পথ থেকে প্রার্থীদের শুধু তবদির করতে দেখা যায়। পড়াশোনা করে চাকরি নিতে হয়, এ অবস্থা তাদের দেখা যায়নি। যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকতে হয়। তারা কেউ জাতীয় সংগীত লিখতে পারেন নাই।”
তিনি বলেন, যেহেতু কোনো প্রার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাই নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। একই পদের জন্য পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
বাছাই পরীক্ষায় তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খানসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।