নারায়ণগঞ্জে পোশাক কর্মী হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন
২০১৭ সালের ১৫ অগাস্ট মুন্সীগঞ্জের শুভ্রকে নির্মাণাধীন একটি ভবনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এক পোশাক কারখানার কর্মীকে হত্যা মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ফতেহকান্দি গ্রামের দানেশ সাহার ছেলে বাবুল সাহা জীবন (৩৩), ফতুল্লার মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকার আমির হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৮), একই এলাকার মিলন (৩২) ও বশির (৩১), মাসদাইর বাজারের যতীন্দ্রের ছেলে সমীর (৩০), চাঁদপুর সদর উপজেলার ধামাদী গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাসের ছেলে সঞ্জয় দাস ওরফে মনা (৩০) এবং নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার প্রয়াত মো. হামিদের ছেলে কাওছার (৩৪)।
তাদের মধ্যে বাবুল সাহা ও কাওছার পলাতক আছেন বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
মামলা থেকে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পলাশপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেন শিকদারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র (৩২) ফতুল্লার উত্তর নরসিংহপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
২০১৭ সালের ১৫ অগাস্ট শুভ্রকে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রেখে চলে যান আসামিরা।
পরে এ ঘটনায় শুভ্রর বাবা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ সাতজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৯ জন সাক্ষ্য দেন বলে জানিয়েছে আদালত পুলিশ।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবনের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছর করে কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
