Published : 24 May 2024, 02:13 AM
ফকির লালন সাঁইয়ের ২৫০তম আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে শেরপুরে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত বাউল সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২০ থেকে ২২ মে চলা এই উৎসবে ভারতের পশ্চিম বাংলার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাউল শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন বলে জানান লালন গবেষক ও বিশ্ব লালন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মান্নান।
‘মানুষের করণ সে কি সাধারণ, জানে কেবল রসিক যারা’ লালনের এ বাণীকে সামনে রেখে বিশ্ব লালন সংঘের আয়োজনে এবং ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় ৯ দিনব্যাপী বাউল সংগীত উৎসবের অংশ হিসেবে শেরপুরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ উৎসবে বাউল শিল্পীরা লালনের নানা দর্শন চিত্র তুলে ধরে সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংগীতের ফাঁকে ফাঁকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
উৎসবের শেষদিন বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর-১ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু।
ভারতের পশ্চিমবাংলা থেকে নিমাই খেপা, প্রমিলা বিশ্বাস ও শ্যাম সুন্দর দাস বাউল লালন সংগীত পরিবেশন করেন।
বাউল শিল্পীরা জানান, লালনের ভাবধারা ও দর্শন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের তিন জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন সংগীত উৎসব। এর আগে গত ১৭ থেকে ১৯ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এ উৎসব। পরে হবে গোপালগঞ্জে।
বিশ্ব লালন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মান্নান বলেন, “সন্ত্রাসমুক্ত, জঙ্গিবাদ মুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে লালনের দর্শন ও ভাবধারার বিকল্প নেই।”
এছাড়া লালনের জন্মজয়ন্তী ও প্রয়াণ দিবসসহ নানা কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।