Published : 16 Oct 2025, 08:35 PM
এবার এইচএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোণা জেলায় চারটি কলেজে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। আরেকটি কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি।
বৃহস্পতিবার ফলাফল প্রকাশের পর নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা ইয়াসমীন এ তথ্য জানান।
শূন্য পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হল- কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, জনতা আদর্শ কলেজ, গড়াডোবা আব্দুল হামিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদর উপজেলার ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সংস্থা এবং পূর্বধলা উপজেলায় জোবাইদা জহোরা উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
এর মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজের ১২ শিক্ষার্থী, জনতা আদর্শ কলেজ থেকে ৯ জন, সদর উপজেলার ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সংস্থায় দুজন এবং জোবাইদা জহোরা উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি।
এদিকে গড়াডোবা আব্দুল হামিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
গোপালপুর মডেল কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত কুমার কর বলেন, “শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী না। অনেকেই আবার গার্মেন্টে চাকরিতে চলে গেছে। এদিকে কলেজ এমপিওভুক্ত না হওয়ায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কলেজ চালাতে হয়। এতে পড়াশোনা ব্যাহত হয়।”
জনতা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তাজিম উদ্দিন ফকির বলেন, “এবার আমাদের কলেজ থেকে নয়জন পরীক্ষা দিয়েছিল। সবাই ফেল করেছে। গত বছর ভালো রেজাল্ট করেছিল, এবারই শুধু খারাপ হয়েছে।”
এ ব্যাপারে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা ইয়াসমীন বলেন, “যে চারটি কলেজে পাসের হার শূন্য রয়েছে সেসব কলেজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিসংখ্যান বলছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০০৪ সালের পর এবারই সবচেয়ে বাজে ফল দেখল বাংলাদেশ।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
সবশেষ এরচেয়ে বাজে ফল হয়েছিল ২০০৪ সালে। সেবার ৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪। এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলায় পাশের হার ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।