Published : 13 Jul 2025, 02:49 PM
চলছে আষাঢ় মাস, ভরা বর্ষার মৌসুমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিলেও উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ভিন্ন চিত্র। পানির অভাবে খাঁ খাঁ করছে ফসলি মাঠ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার আমন ধানের চাষিরা।
দেশের উত্তরের খাদ্য উদ্বৃত্তের এই জেলায় বিগত বছরগুলোতে ১৫ আষাঢ়ের মধ্যে আমন ধানের চারা রোপণের ধুম পড়লেও এবারে এর ব্যতিক্রম হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, প্রায় ২০ দিন যাবত এই জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি। এর মধ্যে মাঝে মাঝে ছিটে ফোঁটা বৃষ্টি হলেও ফসলি জমিতে পানি জমেনি। ফলে শুকনো মাঠে আমন চারা রোপণ করতে পারছেন না তারা।
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, মৌসুমি বায়ু নিষ্ক্রিয় থাকায় পঞ্চগড়ে এখনো সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিনই তেতুলিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ শূন্য মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আষাঢ়ের এই সময়ে যে-সব জমিতে পানি থৈই থৈই করত, সেসকল ফসলি মাঠ এখন পানির অভাবে খাঁ খাঁ করছে। দিনের বেলা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টিতে অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে এখন পর্যন্ত কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি। কিছু এলাকায় কৃষক দহলা বা নীচু কিছু জমিতে সেচের মাধ্যমে আমন রোপণ করছেন।
জেলার বোদা উপজেলার বোসপাড়া গ্রামের কৃষক তছির উদ্দিন বলেন, “গত বছর ১৫ আষাঢ়ের মধ্যে আমন চারা রোপণ করেছিলাম, এবারে জমিতে পানি না জমায় এখনো হালচাষ করতে পারিনি। সময় মতো চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ”

একই উপজেলার বালাভীড় গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে আমন চাষে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় জমিগুলো শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে জমিতে হালচাষ করা যাচ্ছেনা। এদিকে বীজ তলায় আমন ধানের চারাগুলো রোপণের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
একই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আষাঢ় মাস শেষের দিকে। এই আষাঢ় মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, সে পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবার হয়নি। আকাশে কিছু মেঘ জমলেও ভারি বৃষ্টির দেখা মেলে না।
“এই সপ্তাহের মধ্যে ভারি বৃষ্টি না হলে সেচের মাধ্যমে আমন রোপণ শুরু করতে হবে, এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাবে।”

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন ধান।
অনাবৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, “আমন চাষের যথেষ্ট সময় রয়েছে, আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টি নামলে পুরোদমে আমন চাষ শুরু হবে।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। ”