Published : 06 Sep 2025, 03:36 PM
বগুড়া সদর উপজেলায় পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন নিহতের দুই ছেলে ও এক ভাগিনা।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে উপজেলার তেলিপুকুর এলাকার ধান ক্ষেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর।
নিহত শাকিল খন্দকার (৪০) উপজেলার ছিলিমপুর মিয়াপাড়া এলাকার বাকিবুল্লাহ খন্দকারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা বিপ্লব হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শাকিলের ছেলে আপন (২৫) ও অপূর্ব (২২) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে শাকিলের ভাগিনা তৌফিক ইসলামকে (৩২) শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে নিলয় ও রাতুলের নাম জানা গেলেও বাকিদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেলিপুকুর এলাকায় বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শাকিলের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের দ্বন্দ্ব চলছিল। শুক্রবার রাতে জমি কেনাবেচার পাওনা দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে শাকিলকে তার এক আত্মীয় ডেকে নেয়।
সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক প্রথমে শাকিলের ভাগিনা তৌফিককে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাকিলকে আঘাত করলে তিনি পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লোকজন ‘মব তৈরি’ করে উল্টো শাকিলের ছেলে জয়ের (২৮) হাতে দেশি অস্ত্র দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ বলে অভিযোগ স্বজনদের।
রাতেই শাকিলের সন্ধান পেতে পুলিশের শরণাপন্ন হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। শনিবার সকালে ধান ক্ষেত থেকে শাকিলের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
শাকিলের চাচাতো ভাই মিরাজ খন্দকার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাকিলকে হত্যা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।