Published : 13 Jul 2026, 05:43 PM
লক্ষ্মীপুরে বীমার টাকা পরিশোধ না করায় বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন বলে বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ ইস্রাফিল জানান।
শাহজাহান সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবাদীরা হলেন- বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ এক্সিকিউটিব অফিসার মুন্সী মনিরুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিছুর রহমান সুমন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সামছুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ম্যানেজার জাকির হোসেন, ইনচার্জ রিয়াজ হোসেন, হিসাবরক্ষক আয়াত উল্যা ও প্রতিষ্ঠানটির জকসিন বাজার কার্যালয়ের ইনচার্জ তৈয়ব রহমান।
আইনজীবী মোহাম্মদ ইস্রাফিল বলেন, “বীমা পলিসির নামে বাদীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে আদালতে এজাহার দায়ের করা হয়। আদালত এজাহারটি গ্রহণ করে সদর থানার ওসিকে তদন্ত করার আদেশ দিয়েছেন।”
বাদী শাহজাহান বলেন, প্রতারণা করে ছয় লাখ টাকা বীমা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাই বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ডেপুটি প্রজেক্ট হেড মো. জিলকদ হোসেন রিয়াজ বলেন, “পলিসি করার সময় পারভীন আক্তার অসুস্থতার তথ্য গোপন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু আমাদেরকে জানানো হয়েছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাই তথ্য গোপন করার কারণে তার বীমা দাবিটি বাতিল হয়েছে। একজন অসুস্থ ব্যক্তির নামে বীমা হয় না।”
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে শাহজাহানের স্ত্রী পারভীন আক্তারের নামে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১০ বছর মেয়াদে ছয় লাখ টাকার একটি স্বাস্থ্য বীমা পলিসি করা হয়। ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন, বীমার মেয়াদকালে কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যু ঘটলে পলিসির সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী বাদী ২৬ মাস ধরে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছেন। ২৬ কিস্তি পরিশোধের পর বাদীর স্ত্রী স্ট্রোকে মারা গেলে তিনি লক্ষ্মীপুর শাখায় বীমার মৃত্যু দাবির আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে নানা অজুহাতে দাবি নিষ্পত্তি না করে হয়রানি করেন। একপর্যায়ে তারা জানিয়ে দেন, প্রধান কার্যালয় থেকে টাকা অনুমোদন হবে না।