Published : 28 Apr 2026, 04:53 PM
কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও ভোগান্তির শেষ ছিল না। পরীক্ষা শেষে অনেকে বের হয়েছেন কাকভেজা হয়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

নগরীর আদালত সড়ক, লাকসাম সড়ক সালাউদ্দিন মোড়, মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, রেসকোর্স এলাকা, ঈদগাহ সড়ক, অশোকতলা, মগবাড়ি চৌমুনী, কালিয়াজুড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে আছে।
কোথাও কোথাও বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকেছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি ভেঙে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, “পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরাতন ভবনে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে তাদেরকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে।”

নগরীর মগবাড়ি চৌমুনী এলাকার ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, “বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে সব ভিজে গেছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।”
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ড্রেন ও খালের মুখগুলো পরিচ্ছন্ন করে দ্রুত পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে বিকাল পর্যন্ত নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধানসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে গাছ উপড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জেলার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, বুড়িচং উপজেলা থেকে ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব উপজেলায় গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “উপজেলার ভবানীপুর, এগারো গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন আছে, সেখানে আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।”
তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।”