১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্মাণকাজ বন্ধ, ঈদযাত্রায় ‘কমেছে’ বিশ্বরোড-আশুগঞ্জের যানজট

“এখানে যানজটের মূল কারণ ছিল সড়ক নির্মাণকাজের মালামাল বহনকারী যানবাহনের ওঠানামা। এবার সিলেট থেকে আসার পথে সড়ক নির্মাণকাজের গাড়িগুলো চোখে পড়েনি, তাই জ্যামও কম।”

বিডিনিউজ২৪

মাইনুদ্দীন রুবেল. ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 May 2026, 06:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড় থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হতো। 

এতে ঈদযাত্রা ও ঈদ পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ফেরার পথে ভোগান্তির আশঙ্কা করতেন যাত্রী ও চালকরা। তবে এ বছর সেই ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। 

এবার ঈদযাত্রায় সাময়িকভাবে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, অবৈধ যানবাহল নিয়ন্ত্রণ এবং হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি তদারকির কারণে ওই অংশে আগের তুলনায় যানজট অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ককে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) অনুমোদন করে। পরবর্তীতে নানা সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২০২০ সালের মার্চ মাসে তিনটি প্যাকেজে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কাজ শুরু করে। 

তবে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার চার লেন সড়কের কাজ গত আট বছরেও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

ফলে প্রায় প্রতিদিনই আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হতেন। 

তবে এবারের ঈদযাত্রায় হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। এর ফলে মহাসড়কে আগের মতো তীব্র যানজট আর দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী ট্রাকের চালক দুলাল মিয়া বলেন, “আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত আসতেই আমাদের দিনের অনেকটা সময় শেষ হয়ে যেত। তবে আজ তেমন কোনো যানজট নেই।”

তিনি বলেন, “এখানে যানজটের মূল কারণ ছিল সড়ক নির্মাণকাজের মালামাল বহনকারী যানবাহনের ওঠানামা। এবার সিলেট থেকে আসার পথে সড়ক নির্মাণকাজের গাড়িগুলো চোখে পড়েনি, তাই জ্যামও কম।”

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিলাস পরিবহনের সিলেটগামী যাত্রী আলমগীর মিয়া বলেন, “সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। এখন বিশ্বরোড পর্যন্ত এসেছি, পথে কোনো ধরনের যানজটে পড়তে হয়নি।”

বিশ্বরোড মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. সাব্বির মিয়া বলেন, “ঈদ এলেই এই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকত। তবে কয়েকদিন ধরে দেখছি, অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো মহাসড়কে উঠতে পারছে না। এ কারণেই সড়কে এখন যানজট নেই।”

বিশ্বরোড খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবু তাহের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজ থাকার ফলে জ্যামের সৃষ্টি হতো। সরকারি ভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ঈদ উপলক্ষে ৩১ তারিখ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলার কারনে কাজ বন্ধ রেখেছেন।” 

পুলিশ সুপার হাইওয়ে (সিলেট রিজিয়ন) মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বলেন, “মহাসড়কে আটোরিকশাগুলো এলোমেলো চলাফেরা করতো। তাদের মালিকদের সঙ্গে বলে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দিয়েছি। 

“বিশ্বরোড় মোড় থেকে সিলেটের সড়কের এক লেনের কাজ শেষ হওয়ায়, সেই লেনে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সকলের সমন্বয়েই এবার মহাসড়কে যানজট কম হচ্ছে। আমরা চাই এবার ঈদ যেন ভোগান্তি মুক্ত হয়।”