Published : 02 Nov 2025, 04:49 PM
টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে মাটিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধানের গাছ, এতে ফলন কমে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা করছেন রংপুরের চাষিরা।
শনিবার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমনের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আধাপাকা ধানে হলুদ হয়ে আসা ক্ষেতগুলোয় গাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে।বিঘার পর বিঘা জমির ধান নুয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার পানবাড়ি এলাকার কৃষক অবিনাশ মহরী বলেন, অনেক কষ্ট করে চার একর জমিতে আমন আবাদ করেছি এখন যখন কাটার সময়, তখনই বৃষ্টি এসে সব নষ্ট করে দিল।
কণ্ঠে হতাশার সুর নিয়ে তিনি বলেন, “ধানের ফলনও ভালো হওয়ায় দেখে আশায় বুক বেধে ছিলাম। কিন্তু এখন জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে যাচ্ছে, ফলন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।”
রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৫ হেক্টর।
মিঠাপুকুর উপজেলার ধাপের হাট এলাকার কৃষক খিতিশ চন্দ্র বমর্ন বলেন, “যে ধানগাছ শুয়ে পড়েছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই পোকা ধরবে। তখন ধান চিটা হয়ে যাবে। এত পরিশ্রমের ফসল এভাবে নষ্ট হতে বসেছে, ভাবতেই পারছি না।”

গংগাচড়া উপজেলার চওড়ার হাট এলাকার মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “গত বছর ধানের ভালো দাম পাইনি। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল; কিন্তু এই ঝড়-বৃষ্টি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।”
পীরগঞ্জ উপজেলার আবুল হোসেন বলেন, “অসময়ে এমন বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের ক্ষেতের ধান মাটিতে নুয়ে পড়ছে, অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”
কাউনিয়া উপজেলার কেরামতিয়া কলেজের শিক্ষক আতিকুর রহমান মুরাদ বলেন, “সাধারণত এ সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকে; কিন্তু এবারের আকস্মিক বৃষ্টিতে শুধু কৃষিই নয়, দিনমজুরদের জীবনও বিপর্যস্ত হয়েছে।
“সারা দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষ কাজ করতে পারেননি, ফলে আয়-রোজগার বন্ধ ছিল।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিম্নচাপের প্রভাবে জেলার পাঁচ উপজেলায় অন্তত ৭৫ হেক্টর জমির ধান গাছ ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি- যেসব জমিতে ধান শুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।”