Published : 12 Apr 2026, 03:01 PM
কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে বাংলার পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন রাঙামাটির পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষজন।
রোববার ভোরে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিজু উৎসব। এ উৎসবে পাহাড়ি নারীরা বাহারি রঙের পিনন-হাদি আর ছেলেরা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে হ্রদে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠেন।

এদিন সকালে জেলা শহরের তবলছড়ির কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে চাকমা জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের লোকজন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কলা পাতা দিয়ে ফুল ভাসিয়ে দেন।
এ ছাড়া রাজ বন বিহার ঘাট, গর্জনতলী এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুরোনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি দূর করে নতুন বছর যাতে সুখ ও শান্তিতে কাটানো যায় সেজন্য হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানো হয়।
পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের সব গ্লানি মুছে নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

কেরানী পাহাড় এলাকায় ফুল ভাসাতে আসা মোহনা চাকমা বলেন, “বিজু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব। আজকে বিজুর প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’। এ ফুল বিজুতে আমরা পানিতে ফুল ভাসিয়ে মা গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করি, পুরোনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি দূর করে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তিতে কাটাতে পারি।”
চৈতী চাকমা বলেন, “খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে ফুল নিয়ে আমাদের চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন হাদি পরে পানিতে ফুল ভাসাতে এসেছি। আমি ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছি- নতুন বছরে আমরা যাতে সবাই সুখে শান্তিতে ভালো থাকতে পারি।”

সুর্বণা ও রাজশ্রী চাকমা বলেন, এদিন ভোরে বিভিন্ন বাড়ি থেকে ফুল সংগ্রহ করে নদী বা ছড়াতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করেন তারা। এভাবে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন তারা।
কাপ্তাই হ্রদসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম দিয়ে বয়ে চলা চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং, কর্ণফুলী নদীসহ পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়াগুলোতে ফুল ভাসানো হয়।

তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তাই একে বলা হয় ফুল বিজু।
পানিতে ফুল ভাসিয়ে মঙ্গল কামনায় গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা যুগ যুগ ধরে এ উৎসব পালন করে আসছে।