Published : 22 Nov 2025, 07:05 PM
ঢাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম রাফির লাশ গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় দাফন করা হয়েছে। একই ঘটনায় আহত নিহতের মা আছেন হাসপাতালে।
চিকৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার আগে রাফির মৃত্যুর খবর তার মাকে জনানো যাবে না কথা থাকলেও লাশ বেশি সময় রাখা না যাওয়ায় ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর শেষবার ছেলের মুখ দেখে তাকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার বাদ জোহর বগুড়া শহরের সূত্রাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে রাফির জানাজা হয়; পরে বাদ আছর তাকে দাফন করা হয় বলে জানান রাফির মামা নাইহান ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে একটি ভবনের নিচতলায় মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাফি ও তার মা। ১০টা ৩৮ মিনিটে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হয়। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে দোকানের সামনে থাকা ক্রেতাদের ওপর ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ে।
এতে গুরুতর আহত হন ২২ বছর বয়সি রাফিউল ও তার মা নুসরাত। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক রাফিউলকে মৃত ঘোষণা করেন। আর নুসরাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন।
শনিবার সকালে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্রথম জানাজা শেষে রাফির লাশ গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অসুস্থ মাকেও বগুড়ায় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার মিশন হাসপাতালের পাশে ‘রমিছা ভিলা’-তে তার বাসা। তার বাবার নাম ওসমান গনী। দুই ভাইবোনের মধ্যে রাফি ছিল ছোট। রাফির বাবা বগুড়া সরকারি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ।

রাফির চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, রাফি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া রাফি বগুড়া ওয়াইএমসিএ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পড়াশোনা করেছেন।
রাফির বাবা ওসমান গনি বলেন, “রাফির মা হাসপাতালে ভর্তি আছে। ৭২ ঘণ্টার আগে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। লাশ ফ্রিজিং করে রাখা হবে। ৭২ ঘণ্টা পেরুলে মাকে দেখানোর পর লাশ দাফন করা হবে।”
দুপুরে বাবার এমন বক্তব্যের পর বিকালে স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনয়ায়ী মাকে শেষবার রাফির লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাফির মামা নাইহান ইসলাম বলেন, “লাশ বেশিক্ষণ রাখা রাখা যাচ্ছে না। তাই ৭২ ঘণ্টার আগেই ঝুঁকি নিয়েই হাসপাতাল থেকে বোনকে এনে রাফির লাশ দেখানো হয়। পরে তাকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
রাফির মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী ও পরিচিতদের মাঝে শোক ছায়া নেমে এসেছে।