Published : 22 Jun 2026, 06:48 PM
দেশে পরিচালিত আট হাজার ইটভাটার মধ্যে পাঁচ হাজারই অবৈধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
ইটভাটার তালিকা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তিন হাজারের কাছাকাছি বৈধ ইটভাটা রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এখনো ইটের বিকল্প ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
“আগের সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ব্লক বা অন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচলিত ইটের ব্যবহার কমিয়ে আনা। তবে সেই অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।”
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব বলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ইট তৈরির খাতের পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে
ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দূষণের উৎসগুলো আগে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আগামী বছরের মধ্যে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দূষণ নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের নদী ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে কার্যকরভাবে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করা। নারায়ণগঞ্জে দূষণের উৎসগুলো এর মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের পানি দূষণের মূল কারণ হচ্ছে বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা। আমাদের যে ইটিপি প্ল্যান্টগুলো আছে, সেগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। ঢাকা, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ সব নদীতেই এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের যতগুলো পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে, সবগুলোকে অনলাইনে ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। তারা ইটিপি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করছে কি-না, সেটি দেখা হচ্ছে।”
“নদী যদি বাঁচাতে হয়, আমাদের সভ্যতাকে যদি বাঁচাতে হয়, তাহলে এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তরিক। গাছ লাগানো, নদী খনন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে জনবল সংকটের কথাও জানান তিনি।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিতে বিতর্ক উৎসবের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পর্বে অংশ নেন। ফল ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব আলমগীর হুসাইন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান নূর এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার।