Published : 25 Mar 2026, 04:05 PM
গোপালগঞ্জে ‘সম্প্রীতি বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও তা উপেক্ষা করে প্রায় ৭ শতাংশ জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করছেন একই এলাকার আজাদ খান।
বিদ্যালয়টি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-সম্প্রতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, “ঈদে অফিস বন্ধ থাকার সুযোগে মামলা উপেক্ষা করে দখলকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অফিস খোলার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের কাঠামদরবস্ত গ্রামের ওই বিদ্যালয়টিতে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬২ জন শিক্ষার্থী বিনা বেতনে অধ্যয়ন করছে। কর্মরত আছেন ৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
১৯৮৭ সালে ওই গ্রামে প্রায় ৩ একর জমির ওপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সম্প্রতি)’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের উদ্যোগেই ১৯৯৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা জুড়ে ‘সম্প্রীতি বিদ্যানিকেতন’ স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে।
স্কুলটির সামনে আছে শিশুদের খেলাধূলার মাঠ। আর সেই মাঠ চিরেই নির্মাণ করা হচ্ছে দেওয়াল। এতে শিশুদের খেলাধূলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কক্ষে আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্কুলের জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন আজাদ খান।
তিনি বলেন, “আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করিনি। আমি আমার নিজস্ব জমিতে কাজ করছি। আমার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।”
কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “স্কুলের জায়গা জবরদখল সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বললে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়।
“তখন পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। তারপর থেকে স্কুলের প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষকে বসার জন্য শুক্রবার ডাকা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।