গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাই পরিবারে নতুন অতিথি
নতুন শাবকের আগমনে সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
গাজীপুরের সাফারি পার্কে নীলগাই পরিবারে আগমন ঘটেছে নতুন অতিথির।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে শাবকটির জন্ম হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে শাবকটির লিঙ্গ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
গাজীপুর সাফারি পার্কের বুনো পরিবেশে শাবকটি জন্মেছে। এ নিয়ে পার্কে সপ্তমবারের মতো নীলগাই শাবকের জন্ম হলো। নতুন শাবকের আগমনে পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এর মধ্যে ছয়টি পুরুষ ও পাঁচটি স্ত্রী।
২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ হওয়া বেশ কয়েকটি নীলগাই সাফারি পার্কে আনা হয়। এখানকার পরিবেশ ও পরিচর্যার কারণে নীলগাইয়ের প্রজনন কার্যক্রম সফলভাবে চলছে।
নীলগাই- এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘বোসেলাফাস ট্র্যাগোকামেলাস’। এশিয়ার অ্যান্টিলোপ জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বৃহদাকৃতির। দেখতে গরু, হরিণ ও ঘোড়ার মতো হলেও এটি একটি হরিণ প্রজাতি।
এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বনাঞ্চলে নীলগাই অবাধে বিচরণ করত। প্রায় ৮০ বছর আগে এ প্রাণীটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে হারিয়ে যায়।
১৯৪০ সালে পঞ্চগড়ে সর্বশেষ নীলগাই দেখা গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ২০১৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে একটি স্ত্রী নীলগাই ধরা পড়ে। এরপর নওগাঁ ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকটি নীলগাই উদ্ধার করা হয়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে নিয়মিত প্রাণীদের প্রজনন হচ্ছে। প্রতিটি শাবকের জন্মের পর আমরা বিশেষ নজরদারি রাখি। মা ও শাবকের পুষ্টির কথা বিবেচনায় বিশেষ খাবারও পরিবেশন করি। নতুন শাবকটি এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
