Published : 17 Jul 2026, 09:09 PM
সম্প্রতি বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। এতে জেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্যায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ৬৬ কোটি টাকার বেশি।
কৃষি, সওজ, এলজিইডি, মৎস্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দফতরের দেওয়া বিভিন্ন ক্ষতির তালিকার ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২৭৫টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণরূপে এবং ৭৬৫টি বসতবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ১৭৪ জন উপকারভোগীর কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। ৩৩০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া মৎস্য খাতে ৪৫০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি প্রায় দুই কোটি ২৫১ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতে তিন হাজার ১৩টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত লাখ ৬৩ হাজার টাকার।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম তমালের উপস্থিতিতে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
বৈঠকে অবকাঠামো খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। বন্যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১১ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো স্বল্পমেয়াদি মেরামতে ৫০০ লাখ টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে দুই হাজার ৪৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, “আমাদের নয়টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের পাশের রিটার্নিং ওয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়কে পাথর পড়ে যানবাহন বন্ধ ছিল। পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।”
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ৩৩৩ হেক্টর জমির ফসল শতভাগ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া আউশ-আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি খাতের অন্তত সাড়ে সাত হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে দুই হাজার ৭১০ টন ফসল নষ্ট হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীর ২৬টি সড়কের ২১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়ক, পাঁচটি সেতু (৩০৫ মিটার) এবং চারটি কালভার্ট (১৮ মিটার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল রহমান বলেন, কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুবাছড়ির-মহালছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢলের পানি কমেলে ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করা হবে।
বন্যার পর খাগড়াছড়ি সফরে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “অবকাঠামোগতভাবে যে ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা মেরামত বা সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য আমরা চেষ্টা করব।”