Published : 30 Mar 2026, 12:12 AM
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শাফি ইমাম রুমি বীর বিক্রম এর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে সাদাকালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের আয়োজনে ১৩ মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সাদাকালো ফোরাম ও নিউজব্যাংকের সম্পাদক সালেম সুলেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদার রহমান মানিক, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস হোসেন, শমসের আলী, রবিউল ইসলাম রাব্বি, জসিয়ার রহমান, কানাডা প্রবাসী সংস্কৃতিকর্মী শেরিনা শরিফ, দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তাহমিন হক ববী, দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক ও চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি আনোয়ারুল আলম প্রধান।
বক্তারা ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামের সন্তান রুমির মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাঁথা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তার স্মৃতি সংরক্ষণে উপজেলার বসুনিয়া হাট সড়কটি ‘শহীদ রুমি’র নামে নামকরণের দাবি জানান।

পরে ১৩ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ‘শহীদ রুমি (বীর বিক্রম)’ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শহীদ শাফি ইমাম রুমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি শহীদ জননী খ্যাত জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ ছেলে। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামের প্রকৌশলী শরীফ ইমামের সন্তান। জাহানারা ইমাম রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে রুমি অন্যতম প্রধান চরিত্র।
রুমির জন্ম ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ২ এর অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই সেক্টরটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন খালেদ মোশাররফ ও রশিদ হায়দার। প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি গেরিলা দল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ এ যোগ দেন।
১৯৭১ সালের ২৯ অগাস্ট বাসায় অবস্থানের সময় রুমি, তার বাবা শরীফ এবং ভাই জামীকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। দুদিন অমানসিক নির্যাতন চালানোর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ছাড়া হয়নি রুমিকে।
ফিরে আসার সময় বাবা শরীফ ইমাম রুমির কথা জিজ্ঞেস করলে পাকিস্তানি কর্নেল জানায়, রুমি একদিন পর যাবে, ওর জবানবন্দি নেওয়া শেষ হয়নি। কিন্তু পরের সেই দিনটি আর আসেনি।
৩০ অগাস্টের পর রুমি, তার সহযোদ্ধা বদি ও চুল্লুকেও আর দেখা যায়নি। পাওয়া যায়নি রুমির মরদেহ।