Published : 28 Apr 2026, 09:05 PM
ফরিদপুরে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় হামলাকারী যুবক আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে হত্যাকাণ্ডের কারণও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
সোমবার রাত ৯টার দিকে জেলা সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধর ডাঙ্গী গ্রামে তিনজনকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই হারুন মোল্লার ছেলে আকাশ কোদাল নিয়ে উপস্থিত হয়ে তার স্বজনদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার দাদী আমেনা বেগম (৭৫), ফুফু রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী কাবুল হোসেন (৪৫) নিহত হন।
এ ছাড়া হামলায় রিয়াজুল শেখ (৪৫) ও আরজিনা বেগম নামে আরও দুইজন আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই আকাশ পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সকালে নিহত কাবুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে আকাশ মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলার করেন।
পুলিশ জানায়, র্যাবের সহযোগিতায় মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আকাশ মোল্যাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, কাবুল রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে চা খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন এবং রিয়াজুল নামে একজনের সঙ্গে দেখা হলে তারা খুশির বাজারের দিকে রওনা হন। রাত ৯টার সময় তারা হারুন মোল্যার বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পান। তখন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কাবুল ও রিয়াজুল বাড়ির ভেতরে যান। তখন তারা দেখতে পান, আকাশ তার দাদি ও ফুফুকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে।
এ সময় কাবুল চিৎকার দিলে আকাশ মোল্যা হাতে থাকা কোদাল দিয়ে তাদের উপরও হামলা চালায়। এতে কাবুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। কোদালের আঘাতে রিয়াজুল শেখ ও আরজিনা বেগম গুরুতর আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে গিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “আকাশ আমাদের বলেছেন, তার আশঙ্কা ছিল, সবাই মিলে তাকে মেরে ফেলবে এবং সাবালক বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাকে বিবাহ দেওয়া হয়নি। এসব কারণে তিনি পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই আক্রোশ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।”
হামলাকারী আকাশের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা প্রাথমিক তদন্ত ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, আকাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং মানসিক অসুস্থতার জন্য ওষুধ সেবন করতেন। এক সময় তিনি ফরিদপুর টিবি হাসপাতালে (সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিক) চাকরি করতেন। বিভিন্ন কারণে কয়েক বছর আগে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকে তিনি মূলত এলাকাতেই থাকতেন এবং একাই চলাফেরা করতেন। এ ছাড়া আক্রমণকারী হিসেবে এলাকাবাসী তাকে এড়িয়ে চলতেন।”
“আমরা তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক দেখেছি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা সেটা চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন আমাদের কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।”
পুলিশ সুপার বলেন, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম, ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।