Published : 07 Dec 2025, 06:53 PM
দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এক যুবদল নেতা। সংগঠন ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি ‘টাকা আর ষড়যন্ত্রকে’ দায়ী করেছেন।
শনিবার রাত ১২টার দিকে নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে দুধ দিয়ে গোসলের একটি ভিডিও পোস্ট করে এ ঘোষণা দেন উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হোসেন মিয়া।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ জামান টিপু বলেন, “রাজনীতি হচ্ছে আদর্শ ও সংগঠনের জন্য কাজ করার জায়গা। ব্যক্তিগত হতাশা বা চাপের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দুঃখজনক।”
এদিকে দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া স্ট্যাটাসে রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে হোসেন মিয়া লেখেন, “আমার এই ভিডিওটি দেখার পর সবার কাছে আমি হাসির পাত্র হিসেবে থাকব, এমনিতেই আমি আজ সবার হাসির পাত্র। আমি ধ্বংস হইনি, আমাকে ধ্বংস করা হয়েছে। আর সেটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিস্টেমের কাছে, যে সিস্টেমটার নাম হচ্ছে, টাকা আর ষড়যন্ত্র।
“আমার কাছের মানুষগুলো আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে। আমার মত মানুষের রাজনীতিতে দুই-চারটা না থাকলে কিছুই হবে না। কিন্তু একটা প্রশ্ন রেখে যাই, আমার লড়াইটা কিসের জন্য ছিল? আমার লড়াইটা ছিল বিএনপির জন্য, যুবদলের জন্য, চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী জালাল সাহেবের জন্য।”
হোসেন মিয়ার দাবি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘দোসরদের’ যোগসাজশে তাকে রাজনীতি থেকে সরানো হয়েছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ মিলেমিশে ষড়যন্ত্র করে, টাকা আর ক্ষমতার পাওয়ারে। তার মত ক্ষুদ্র কর্মীকে ধ্বংস করেছে লেখেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, “সকল প্রকার রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। বলার মত অনেক কথা আছে, কিন্তু ভাষা নেই। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।”
হোসেন মিয়ার ভিডিও ও পোস্টে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে এ ঘটনাকে ‘আবেগি সিদ্ধান্ত’ বা ‘অতিরঞ্জন’ হিসেবে দেখছেন।
হোসেন মিয়াকে নিজ সংগঠনের কর্মী দাবি করে উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ জামান টিপু বলেন, ভুল বোঝাবুঝি বা অভিমান থাকলে আলোচনা ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান হতে পারত। দল ছাড়া নিয়ে হোসেন মিয়াকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “যুবদল থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখনো ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয় না। কমিটি ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত হয়। যদি তিনি মনে করেন কেউ অন্যায় করেছে, সংগঠন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।”