Published : 04 Nov 2025, 06:06 PM
গাজীপুর নগরের গাছা থানা এলাকায় বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অপর এক যুবক। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের কিশোর অপরাধী বলছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গাছা থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকার আক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান গাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।
নিহত মারুফ কুনিয়া (২২) ওই এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। আহত জামিল (২৪) একই এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি (২৪) এবং সাব্বির হোসেন (১৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় জামিল ওই এলাকার গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দেশি অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তাদের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ করলে রবির সঙ্গে জামিলের বাগবিতণ্ডা হয়।
বিষয়টি শান্ত করতে জামিলের বন্ধু মারুফ ঘটনাস্থলে গেলে রবি ও তার সহযোগীরা দুজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় তারুন্নেসা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জামিলকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত জামিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রবি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে সক্রিয় ছিল। তাদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মারুফ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সিগমা রবিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা এবং সাব্বিরকে গাছা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।