Published : 28 Jan 2026, 05:41 PM
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি সভাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার বেলা দেড়টার দিকে চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয় বলে ভাঙ্গা থানার ওসি আব্দুল আলিম জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে নারীসহ পাঁচজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন বাবলাতলা গ্রামের ওই গ্রামের ইস্রাফিল মোল্যা এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চাঁন মিয়া।
ওসি আব্দুল আলিম বলেন, “মঙ্গলবার একটি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইস্রাফিল, ওয়াদুদ, শাহাবুদ্দিন ও চাঁন সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুমুরদি ইউনিয়নের পাশের ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তারা। সভায় বাবুলের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ইস্রাফিল মোল্যা ‘দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ায়’ ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামে এক যুবক বাধা দেন। তখন তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে ইস্রাফিলের ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এরপরেই উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগম (৪৫) সহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাকারিয়া মোল্যা বলেন, “বাবুল ভাইয়ের ওই অনু্ষ্ঠানে আমার ভাই একটু সময় নিয়ে বক্তব্য দিলে শান্ত নামে একজন পেছন থেকে কটাক্ষ করে।
“এ সময় তর্কবিতর্ক হয়, এরপর আমাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছ৷ আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়াদুদ মোল্যা পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।