Published : 17 Jul 2026, 10:52 AM
নিলাম আয়োজকদের আশা ছিল, দাম উঠবে ৬০ লাখ ডলারের আশেপাশে। শেষ পর্যন্ত অতটা হলো না। তবে যতটা হলো, তাতেই হয়ে গেল রেকর্ড। পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপের জার্সি বিক্রি হলো ৪৯ লাখ মার্কিন ডলারে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারক এখন এই জার্সিই।
এই জার্সি গায়ে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন পেলে। ১৭ বছর বয়সী আনকোরা ছেলেটি সেই বিশ্বকাপে যা করেছিলেন, ফুটবল ইতিহাসে এখনও তা রূপকথা হয়ে আছে। তুমুল তোলপাড় তুলে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার পথে ফাইনালে দুটি গোল করেছিলেন তিনি।
সেই জার্সিই নিলামে তোলে চারু ও আলংকারিক শিল্পকর্ম, গহনা এবং সংগ্রাহ্য বস্তুর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সোদেবি’জ। গত ২৯ জুন থেকে এই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে নিলাম।
নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল জার্সিটি এখনও দিয়েগো মারাদোনার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারে। কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে ওই গোলটি করার মিনিট চারের পর একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ এক গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক, যেটিকে বলা হয় ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি।’
১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের সবকিছুই ফুটবলের চিরন্তন গল্পগাঁথার অংশ হয়ে আছে। হাঁটুর চোট থাকার পরও তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরেই বসেছিলেন। পরের ম্যাচেও তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু কোচ তাকে মাঠে নামান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই ম্যাচে দলের জয়ে একটি গোলে সহায়তাও করেন তরুণ এই প্রতিভা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে দলের জয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরারের রেকর্ডও গড়েন। বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেন তিনি সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে। পরে ফাইনালেও দলের বিশাল জয়ে দুটি গোল করেন তিনি।
সেদিন প্রথম গোলটিকে এখনও মনে করা হয় বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলগুলির একটি। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে, একজন সুইডিশ ডিফেন্ডারের ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে হেড থেকে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এখনও তিনিই।
সেই ফাইনালের জার্সিটি পেলে পরে উপহার দেন তার রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে। হাতে তৈরি জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছে ছিল, এরপর একটি ব্রাজিলিয়ান জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয় এবং অবশেষে ২০০৪ সালে এটি কিনে নেন এর বর্তমান মালিক, যিনি পরিচয় গোপন রেখেছেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনটি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার এই কিংবদন্তি।