Published : 02 Feb 2026, 09:22 PM
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার আসামিদের আগাম জামিনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।
সোমবার বিকালে শেরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার দাবি করেন রেজাউলের স্ত্রী মারজিয়া বেগম।
এ সময় সেখানে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমের ভাগনি রেশমা আক্তার রিতু, ভাই আহসান ইসলাম, বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, আট বছরের মেয়ে মানহা ও তিন বছরের ছেলে মোছাদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মারজিয়া বলেন, “আমি আজ হাজির হয়েছি একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন অসহায় বিধবা হিসেবে এবং দুইজন এতিম সন্তানের মা হিসেবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমার স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করেছে। স্বামী হত্যার শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই আমি জানতে পারি, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই খুনিরা জামিন পায়। ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ার পরও কার ইশারায় হত্যাকারীদের জামিন দেওয়া হল?”
সংবাদ সম্মেলনে মারজিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হত্যাকারীদের জামিন হয়। তাহলে কি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে এখনো ফ্যাসিস্টদের উত্তরসূরীরা রয়ে গেছে?”
সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে ৪০ আসামিকে ছয় সপ্তাহের জামিন দেন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আগাম জামিনের আবেদন করা হয়।
২৮ জানুয়ারি বিকালে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় স্ত্রী মারজিয়া শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।