রাকসু জিএস আম্মারকে খুলনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ঝাড়ুমিছিল ও কুশপুতুল দাহ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর সাধারণ সম্পাদক-জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে খুলনার কয়রা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝাড়ু হাতে মিছিল বের করেন যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক ঘুরে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে আম্মারের কুশপুতুল দাহ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানান কয়রা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোতাসিম বিল্লাহ।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, সালাহউদ্দিন আম্মার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেইসবুক আইডিতে তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে শেখ হাসিনার চেহারা সংযোজন করে একটি ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ বলেন, “সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিকর ও নিন্দনীয়। তাকে কয়রায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।”
“আপনারা যেখানেই তাকে পাবেন, সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন”, নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান সবুজ।
কয়রা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “তারেক রহমানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমাদের হৃদয়ে গভীর আঘাত হেনেছে। ভবিষ্যতে কয়রায় আম্মারের উপস্থিতিতে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”
তবে বৃহস্পতিবার আম্মারের ফেইসবুক আইডিতে ব্যঙ্গচিত্রটি আর দেখা যায়নি। এ বিষয়ে নিজ ফেইসবুক পেজে আম্মার দাবি করেন, তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেননি বরং এটি ‘সাইবার আক্রমণের’ মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পক্ষে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন।
কয়রা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও নিজ ফেইসবুক পেইজে শেয়ার করে আম্মার লিখেছেন, “এলাকার বিএনপির সদস্যসচিব আমার নিজের মামা। তার নেতৃত্বেই আমার ব্যানার পোড়ানো হয়েছে এবং মিছিলের ভিডিওতেও তাকে দেখতে পেয়েছি।”
এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে থাকা আম্মারের ব্যানার খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
