সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে মাগুরায় পৌঁছাল শিশুর মরদেহ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারটি মাগুরা স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।
ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুটির মরদেহ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারটি মাগুরা স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।
এ সময় তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, “আমার মেয়ের ধর্ষণকারীদের ফাঁসি চাই। আমার মনিরে বেলেট দিয়ে কেটে কেটে হত্যা করতে চেয়েছিল।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক অহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা।
পরে মরদেহটি সেনাবাহিনী ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে শ্রীপুর উপজেলা জারিয়া গ্রামে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে অন্য হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক।
জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার কাজ শেষ করতে হবে। ধর্ষণের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে এ কারণে যেন আর কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস না পায়।”
মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ৬ মার্চ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। সেই খবরে সারা দেশে তৈরি হয় ক্ষোভ।
এ ঘটনায় শিশুটির মা গত ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- শিশুটির ভগ্নিপতি সজীব হোসেন (১৮) ও বোনের শ্বশুর হিটু মিয়া (৪২), সজীবের অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাই (১৭) এবং তাদের মা জাবেদা বেগম (৪০)। তাদের চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মার্চই তাকে ঢাকা মেডিকেলের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
পরে ৭ মার্চ রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ৮ মার্চ শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
