Published : 01 Jun 2026, 08:57 PM
“দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি এখান থেকে। অনেকে বলে, ‘ভোটে এমপি হইছেন।’ আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লাখ মানুষ।”
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মজিবর রহমান (বাচ্চু)। সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে টেনে জামায়াত নেতা মাসুদ বলেন, “ফাইজলামি করেন মিয়া। শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই; শেখ হাসিনার কাছে জাইন্যা নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।
“শফিকুল ইসলাম কী জিনিস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। ৯ তারিখ থানার সামনে, ওখানে দাঁড়াইয়া দেখাইছি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।”
তিনি বলেন, “উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা (মাথা) গরম করবেন না।”
মটকা কী জানেন? এমন প্রশ্ন রেখে অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা বলেন, “মটকা গরম করলে সামলাইতে পারবেন না। এখন আবার নতুন আরেক গান শুরু করছে, ভালো মানুষের খাওন নাই।
“কী একটা অসভ্য দেশে, কী একটা জাহেল, কী একটা মূর্খ। ভালো মানুষের খাওয়া আছে, খাওয়া থাকবে। ওই বাউফল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। আমরা কী আবার ডাকাতদের হাতে বাউফল ছেড়ে দিব। বেশি বললে সামলাইতে পারবেন না।”
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মাসুদ বলেন, “শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই, তারপরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা।
“কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে, এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনও আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না। জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।”
ভিডিওর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইল ফোনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগেও কেউ কেউ ক্ষমতা দেখিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করার অপচেষ্টা করছিল। সেদিন জনগণ থানার সামনে একত্রিত হয়েছিলেন, সেখানে তাদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন বলে দাবি করেন।
“তাদের সাথে থেকে, যারা এই ভোট কারচুপির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন প্রশাসনই তাদের সরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা বিক্ষোভ করেছি, অবস্থান করেছিলাম। জনগণের পক্ষ থেকে দাবি তুলেছিলাম। পক্ষপাততুষ্ট ওসি এবং সেনাবাহিনীর যিনি দায়িত্বে আছেন, তাদেরকে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তখনকার বক্তব্যও আছে।”
নির্বাচনের তিন মাস পর সেই ঘটনা নিয়ে কথা বলার কারণ জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “সেই কথাটা এখন বলছি এই কারণে, জনগণের রায়ে আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন আবার কেউ কেউ বলছে এবং বক্তব্যই দিচ্ছে, এমপি মাসুদ হলেও এখানে পাওয়ারে আমরা।
“ওই জন্য আমি বলছি, আমি পাওয়ার দেখানোর জন্য এমপি হই নাই। আমি সাধারণ মানুষকে শক্তিশালী করার জন্য এবং পাওয়ার তাদের হাতে তোলার জন্য এমপি হয়েছি। আমি এ কথাও বলেছি, এবার ব্যক্তি মাসুদ এমপি হবে না, এবার এমপি হবে বাউফলের সাড়ে তিন লাখ মানুষ। জনগণের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার জন্যই আমি এমপি হয়েছি।”