Published : 20 Jun 2026, 06:34 PM
রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া সোনা-রুপা উদ্ধারের দাবিতে রাজশাহীর সব জুয়েলারির দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সাহেববাজার এলাকার আবাসিক স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় ‘আফিয়া জুয়েলার্স’ ও ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ পাশাপাশি অবস্থিত। চোর প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের শোরুমের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দুটি শোরুমের মাঝখানের দেয়াল কেটে ‘কারুশ্রী জুয়েলার্সের’ ভেতরে ঢোকে। সেখান থেকে তারা সিন্দুক ও শোকেসে থাকা সমস্ত সোনা, রুপা (চাঁদি) এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে।
তবে ওই সময় পাশের ‘আফিয়া জুয়েলার্সে’ কোনো মালামাল ছিল না বলে দোকানটি মালিক খন্দকার আরিফুর রহামান রুশো জানিয়েছেন।
‘কারুশ্রী জুয়েলার্সের’ মালিক তূর্য সরকার দাবি করেছেন, “দোকান থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি সোনা, ১২০০ ভরি চাঁদি এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা লুট হয়েছে। পরে খাতাপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে কত টাকার ক্ষতি হয়েছে।
“পাশের রুমের তালা-শাটার খুলে কারা ভিতরে প্রবেশ করে এবং বের হয়ে তালা লাগিয়ে গেছে তদন্ত করলে সেটি বের হয়ে আসবে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এদিকে, চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতারা।

বাজুস রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, “এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর সব জুয়েলার্স দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।”
এদিকে, চুরির খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সিআইডি ও ফরেনসিক দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”