Published : 12 Jul 2025, 04:02 PM
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর এক নৈশ প্রহরীর লাশ মধুমতি বিলরুট চ্যানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে মামলা করেছে পরিবার।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার কংশুর এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোল্যা আফজাল হোসেন।
গৌতম গাইন (৩৫) মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রামের বিমল গাইনের ছেলে। তিনি ওই উপজেলার জলিরপাড় জে কে এম বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী পদে কর্মরত ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় গৌতমের বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বাড়ি ভাঙচুর করে।
পরিদর্শক আফজাল বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় গৌতম গাইন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন বৃহস্পতিবার স্ত্রী মিলি বৈরাগী মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে শুক্রবার বিকালে স্থানীয়রা মধুমতি বিলরুট চ্যানেলে মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটির গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। শরীরের কোথাও আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী মিলি বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, “দেড় মাস আগে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ষড়যন্ত্র করে স্কুলের গ্রিল কেটে চুরির অপবাদ দিয়ে আমার স্বামীর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। তারা তাদের মনোনীত একজনকে নৈশ প্রহরীর চাকরি দিতে চেয়েছিল।
“অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক আমার স্বামীকে চাকরিতে বহাল রাখেন। এরপর থেকে চারজন শিক্ষক আমার স্বামীর বিরুদ্ধে সব সময় বিরোধিতা করে আসছিলেন।”
তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মিলি বৈরাগী বলেন, “যে রাতে সে নিখোঁজ হয়, তখন রাত সাড়ে ৮টায় ডিউটিতে যায়। পরে তার মোবাইল বন্ধ পাই। পরের দিন থানায় জিডি করি।”
স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।
অন্যদিকে গৌতমের শ্যালক কার্তিক বৈরাগী বলেন, গৌতম জিম্মাদার হয়ে বিভিন্ন সুদের কারবারীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহাকে দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক দেনায়-দেনায় জর্জরিত হয়ে বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন।
“এ খবর জানাজানি হওয়ার পর সুদের কারবারীরা টাকা আদায় করে দিতে গৌতমকে চাপ দিয়ে আসছিল। এর বিরোধকে কেন্দ্র করেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। ”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহা বলেন, “যখন স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটে, তখন আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পরে এ ঘটনায় নৈশ প্রহরী গৌতমকে জরিমানা করা হয় বলে জানতে পারি। গৌতম জিম্মাদার হয়ে আমাকে কিছু টাকা এনে দিয়েছিল। ”
মুকসুদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ পাল বলেন, নিহতের স্ত্রী মিলি বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে গৌতম গাইন জিম্মাদার হয়ে প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহাকে সুদের কারবারিদের কাছ থেকে টাকা এনে দেয় এবং স্কুলের নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।