Published : 08 Jul 2026, 05:35 PM
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন পালন করছেন।
মঙ্গলবার রাত পৌনে একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মাইনুল জাকির।
তিনি বলেন, “হাসপাতালে নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। রাতেও ঘটনাস্থলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-প্রশিক্ষণ) মোহাম্মদ বদরুল আমিনকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমরা হাসপাতালের প্রশাসনের সঙ্গে মিটিংয়ে বসব। রাতে হামলার ঘটনার পর স্যাররা এসেছিলেন। হাসপাতালের নিরাপত্তাসহ আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি।
“কালকে মিটিংয়ের পর আপনাদের বিবৃতি দিয়ে সবকিছু জানানো হবে। তবে আমাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, রাতের হামলায় সাত থেকে আটজন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন; এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়ের নাম পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও নগরীর বালুচর এলাকার বাসিন্দা আবরার হোসেন ও জাহিদ, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরেক স্বজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুকে জরুরি বিভাগে আনার পর রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তখন হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। হামলার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্টাম্প হাতে অবস্থান করতেও দেখা যায়।
মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জরুরি বিভাগে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের ঘটনার পর আলাদা বিবৃতিতে ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে।
একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।