Published : 16 Jun 2026, 01:36 PM
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের পরদিন ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি ও মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হক জানিয়েছেনে।
শিশুটির স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে প্রতিদিনের মতোই বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামের একজনের ভুট্টাক্ষেতের কিছু গাছ ভাঙা দেখে সন্দেহ করেন। পরে সেখানে গিয়ে একটি গর্তে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন তারা।
শিশুটির বাবা বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। গ্রামে আমার কোনো শত্রু নেই। সোমবার দুপুরেও মেয়ের সাথে একসঙ্গে খেয়েছি। আমার ছোট মেয়েটাকে যারা এভাবে নির্যাতন করে মারল, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা আদিতমারী থানার এসআই তুহিন মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খবর পেয়ে আমরা এসে মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।"
হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।”
ওসি নাজমুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশু হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।”