Published : 22 Dec 2024, 08:41 PM
শীতের আগমনের শুরুতে বগুড়ার বাজারের ভেজাল খেজুর গুড়ের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। শীতে খেজুর গুড়ের বাড়তি চাহিদার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু লোক এসব ভেজাল গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছেন। বিক্রেতারাও চড়া দামে ভেজাল খেজুর গুড় বিকোচ্ছেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা।
বগুড়ার করতোয়া নদীর পূর্ব পাড়ে পলি মাটি হওয়ায় সেখানে খেজুরের রসের ঘনত্ব এবং মিষ্টি কম। কিন্তু পশ্চিমপাড়ে লাল মাটির রসের ঘনত্ব ও মিষ্টি বেশি। ফলে এ রস দিয়ে তৈরি গুড়ের মানও ভালো।
জেলার কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুপচাচিয়া থেকে প্রতি শীতে সংগ্রহ করা খেজুরের রস দিয়ে পাটালি, নালী ও দানাদার গুড় তৈরি করা হয়। সেই গুড় উপজেলা ও জেলা শহরের ব্যবসায়ীরা কিনে নেন।
এছাড়া বগুড়ার বাজারে রাজশাহীর বানেশ্বর ও নাটোরের সিংড়া থেকে আসা পাটালি, নালী ও দানাদার রসের গুড়ও বিক্রি করেন বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
খেজুরের গুড় তৈরির কারিগর কাহালু উপজেলা সদর ইউনিয়নের মুরইলের বুলবুল।
তিনি বলেন, “খেজুরের এক লিটার রস সংগ্রহ করতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হয়। পাঁচ লিটার রসে এক কেজি গুড় করা যায়। প্রতি কেজি আসল গুড় তৈরি করে আমরা পাইকারী ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। খুচরা দোকানদাররা একটু বেশি দামে বিক্রিতো করবেই।”
তিনি বলেন, “তবে শুনেছি, তারা চার থেকে ছয়শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। এটা গ্রাহককে ঠকিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া।”
বগুড়া শহরে খেজুর গুড়ের বড় বাজার ফতেহ আলী ও রাজা বাজার।

সেখানে খেজুরের গুড় ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৮০ টাকা কেজি থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দোকানদাররা ৬০০ টাকা কেজির গুড়ে গ্যারান্টি দিচ্ছেন।
বুলবুলের ভাষ্য, “বাজারে ১৮০ টাকা থেকে দুই শত টাকায় যে খেজুর গুড় বিক্রি হয় তা আসল নয়। কিছু খেজুরের রসের সঙ্গে চিনি এবং কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করে ওইসব গুড়। অনেক দোকানদার অর্ডার দিয়ে কম দামে কিনে নেয় এবং বাড়তি দামে নকল খেজুরের গুড় বিক্রি করে।”
বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের গৃহিণী সাদিয়া সুলতানা বলেন, “বাজার থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে খেজুরের গুড় কিনেছিলাম দুধপিঠা তৈরির জন্য। কিন্তু গুড় দেওয়ার পরপর দুধই নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানদারকে গিয়ে অভিযোগ দিলে দোকানদার বলেন, কম দামে গুড় নিলে কি অরিজিনাল পাবেন?”
ফতেহ আলী বাজারের খেজুরের গুড়ের দোকানদার অভি মান্য বলেন, “ভাই, লোকজন কম দামে গুড় চায়। গুড়তো আমি তৈরি করি না। যাদের কাছ থেকে গুড় কিনি তারা বিভিন্ন দামে দেয় আমাদের। আমরা লাভ রেখে তা বিক্রি করি। অরিজিনাল বলে যে গুড়, তার গ্রাহক আলাদা। দাম তাদের কাছে বিষয় না। বাজারে ভেজালমুক্ত গুড় চাইলে, যারা তৈরি করেন, তাদের ধরতে হবে। কম টাকায় যারা চায় তাদেরও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।”
আরেক দোকানদার মুন্না বলেন, তিনি যশোর, রাজশাহীর থানেশ্বর ও নাটোরের সিংড়া থেকে গুড় নিয়ে আসেন। সেখানকার খেজুরের রসের ঘনত্ব এবং মিষ্টি বেশি। স্বাদ-গন্ধ দুটোই ভালো।
তিনি বলেন, “অরিজিনাল খেজুর গুড় ৬০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করি। কম দামের গুড় জেলার কাহালু, নন্দীগ্রাম, দুপচাচিয়া থেকে দিয়ে যায়। যিনি যেমন দামের গুড় চান তা-ই বিক্রি করি।”