পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসি-পুলিশকে মারধরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার পর একজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি সরোয়ার আলম।
ওসি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুব জামায়াতের নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের কালিবাড়ী হাটের সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়ে অভিযোগপত্র নিয়ে আসেন।
তবে পলাশ তাৎক্ষণিকভাবে বিবাদমান ওই দোকানে তালা দিতে তাকে (ওসি) চাপ দেন। এতে তিনি (ওসি) আপত্তি জানান এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে পলাশ ওসির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে (ওসি) মারপিট করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়।
এতে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন, রাসেল, ছানোয়ারসহ সাতজনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সোহাগ বলেন, 'রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
এ ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে এক যুব জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের দুজন আহত হয়েছে।
যুব জামায়াতের নেতা পলাশ বলেন, “পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।”
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে আটক হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
