Published : 23 Apr 2026, 09:29 PM
বরিশাল নগরে প্রেমিকের বাসা থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার পর প্রেমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে নগরের বগুড়া সড়কে অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাফি মঞ্জিলের ছয় তলার একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
মৃত সানজিদা কবির অনিতা (২২) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া গ্রামের মহাসিন কবির শাহিনের মেয়ে। তিনি সরকারি একটি নাসিং কলেজ শিক্ষার্থী ছিলেন। নগরের অক্সফোর্ড মিশন রোডের ইয়াসিন মঞ্জিলে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন অনিতা।
পলাতক প্রেমিকা মাইনুল ইসলাম আকন হিমু (৩০) ঝালকাঠির পৌর এলাকার কাটপট্টি রোডের বাসিন্দা মিল্টন আকনের ছেলে। তিনি মাকে নিয়ে রাফি মঞ্জিলের ছয়তলায় ভাড়া থাকেন।
হিমুর মা ফাতেমা বেগম বলেন, “হিমু ও অনিতার মধ্যে প্রেম ছিল। আমি অসুস্থতার কারণে মেয়ের বাসায় যেই। এই সুযোগে অনিতা আমাদের বাসায় আসে। দুপুর ১টার দিকে বাসায় এসে দরজায় তালা দেখতে পাই। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখি, বিছানায় অনিতার নিথর দেহ পড়ে আছে।
“এরপর হিমুকে একের পর এক ফোন করলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাই। ঘরে অনিতা এবং হিমু ছাড়া আর কেউ ছিল না।”
অনিতার বোন বলেন, “আড়াই বছর ধরে অনিতার সঙ্গে হিমুর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এক থেকে দেড় মাস আগে বিষয়টি জানতে পারি। তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, হিমু তার আগের স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি অনিতাকে জানানোর পর সে সম্পর্ক থেকে সরে আসে।”
তিনি বলেন, অনিতা হোস্টেলে থাকতেন। মালামাল গোছানোর জন্য সকালে বাসা থেকে বের হন অনিতা। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত না ফেরায় তাকে খুঁজতে বের হন তিনি। দুপুরের পর হিমুর বাসার নিচে পুলিশ দেখে উপরে উঠে অনিতার লাশ পান তিনি।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রেমিক জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সিআইডির একটি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।