Published : 16 Nov 2025, 09:10 PM
বিচারক ছুটিকে থাকায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া দুই মামলার শুনানি হয়নি।
রোববার ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার যুক্তিতর্ক সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথা থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।
তবে একদিনে যুক্তিতর্ক শেষ না হলে একাধিক দিন তা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
পিপি আবুল হোসেন বলেন, “ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় হওয়া দুই মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আজ। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
“কিন্তু বিচারক ছুটিতে থাকায় শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে। যুক্তিতর্ক শেষ হলে, বিচারক আলোচিত এসব মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন।”
তিনি বলেন, দুই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, নির্বাহী হাকিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের শিক্ষক এবং ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
মামলা থেকে জানা গেছে, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেছেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন। ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।
ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা করা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেওয়া অভিযোগপত্রে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার বাসিন্দা সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার বাসিন্দা শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের বাসিন্দা অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (২৫) এবং কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫) আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।
ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।