১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ: সাভারে রিকশা চালকদের অবরোধ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার অবরোধে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ যানবাহনের সারিতে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

সাভার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 May 2026, 03:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:34 PM

ঢাকার সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে  ‘চাঁদাবাজি ও হয়রানির’ অভিযোগ করে তার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা।

শনিবার দুপুরে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ব্যাপী সাভারের পাকিজা মোড় এলাকায় কয়েকশ চালকের এ অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ রিকশা চালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। 

নাসির উদ্দিন, ইউনুস আলী প্রামানিক, সুলতান মিয়াসহ বিক্ষুব্ধ রিকশা চালকদের দাবি, মহাসড়কে রিকশা ওঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত চালকদের আটকে ২৬০০ করে টাকা নেয়। এই টাকার কোনো রশিদও দেয় না। 

চালকরা বলেন, সারাদিন রোদের মধ্যে রিকশা চালিয়ে ২৬০০ টাকা ইনকাম করতে পারি না। রিকশা আটকের পর দেখা যায় ধার-দেনা করে টাকা এনে ছাড়িয়ে নিতে হয়। আবার পরদিন একই কায়দায় তারা রিকশা আটক করে। পুনরায় টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।

তারা বলেন, তারা হাইওয়ে পুলিশের এই চাঁদাবাজি থেকে পরিত্রাণ চান। সরকার তাদের রিকশা চালাতে না দিলে রিকশার কারখানাগুলো বন্ধ করে দিক। তাদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক যেন পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারেন তারা।

এদিকে, অবরোধের ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গেন্ডা এবং অন্যদিকে হেমায়েতপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানবাহনের সারিতে তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। 

বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো যানজটে আটকে পড়ে দুর্ভোগে পড়েন। 

পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে। 

পুলিশের এই আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন রিকশাচালকরা।

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান বলেন, “হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকা বিশিষ্ট যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয় বরং আইনি প্রক্রিয়া। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা কাগজ থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। 

“কিন্তু এই রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ না থাকায় তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩৯ ধারায় ২৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে।”