Published : 19 May 2026, 06:05 PM
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দ্বীপ জেলা ভোলার খামারি ও কৃষকেরা। বাজারে চাহিদা ও আকর্ষণ বাড়াতে গরু, মহিষ ও ছাগলকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করছেন তারা।
এ বছর ভোলার পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এক বিশাল আকৃতির গরু; যার নাম ‘জমিদার’। দেশীয় খাবার খাইয়ে যত্নের সঙ্গে মোটাতাজা করা হয়েছে প্রাণীটিকে।
সরজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের তোফাজ্জল মালের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ আলী মাল কোরবানির ঈদের জন্য এই বিশাল আকৃতির গরুটি লালন-পালন করে প্রস্তুত করেছেন।
কৃষক মো. আলী মাল জানান, গরুটির ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ১৭ মণ।
তিনি বলেন, ৪ লাখ টাকা দাম পেলে গরুটি বিক্রি করবেন। জমিদার ছাড়াও দেশি আরও কয়েকটি গরু কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কৃষক আলী মাল বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তবে গত এক যুগ ধরে প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বড় আকৃতির গরু লালন-পালন করে প্রস্তুত করছেন।

তিনি বলেন, এ বছর ‘জমিদার’ ছাড়াও ‘বাহাদুর’, ‘বাদশা’, ‘রাজা’, ‘কালাচাঁদ’ ও ‘লালচাঁদ’ নামের আরও কয়েকটি গরু হাটে তোলা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু ‘জমিদার’।এর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট।
আলী বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তিনি এক খামারির কাছ থেকে গরুটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের সুষম দানাদার খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে। জমিদার অন্য গরুর থেকে বেশি খাবার খেয়ে থাকে। এ কারণেই তার নাম জমিদার রাখা হয়েছে।
প্রায় ছয় মাস ধরে জমিদারকে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি কাঁচা ঘাস, গম-ভূট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলী।
আলীর ছেলে জিহাদ মাল বলেন, “ভোলা সদর উপজেলায় এত বড় ও পরিপুষ্ট দেশীয় গরু কারো খামারে নেই। তাই কোরবানির হাটে জমিদার উঠালে সবার দৃষ্টি কাড়বে।”
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সব খামারিকেই দেশীয় পদ্ধতিতে, দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। জমিদার নামে গরুটিও দেশীয় খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে।”