Published : 25 Aug 2024, 11:32 PM
১৩ বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সদ্য পদত্যাগ করা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে মামলা হয়েছে।
রোববার বিকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া মামলাটি করেন বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম।
মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন খায়রুল হক। গত ১৮ অগাস্ট আইনজীবী ইমরুল হাসান ঢাকার একটি আদালতে অভিযোগ করেন। তবে শুনানি নিয়ে তা খারিজ করে দেন ঢাকা মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ বিথি।
নারায়ণগঞ্জে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় সংবিধানের ত্রয়োদশ মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের আটজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মতামত দেন।
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হক, বিচারপতি এস কে সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে রায় দেন।
অন্যদিকে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞা, নাজমুন আরা সুলতানা ও ঈমান আলী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন।
বাদী অভিযোগ করেন, বিষয়টি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আগেই বুঝতে পেরে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে কাস্টিং ভোট দেন।
ফলে রায়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের চার-তিনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন নাকচ
মামলায় বলা হয়, ওই সংক্ষিপ্ত রায়ের ওপর ভিত্তি করে সরকার তড়িঘড়ি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।
যদিও প্রকাশ্য আদালতে বিচারপতি খায়রুল হক পরবর্তী দুটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় সর্বসম্মত ছিল না দাবি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, রায় দেওয়ার পরপরই খায়রুল হক অবসরে চলে যান।
“আসামি অবসরে যাওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস ও জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে’ ক্ষমতাসীন দলের কর্তাব্যক্তিদের পরামর্শ ও ইন্ধনে এক রায় লিখে তিনি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেন।
“এতে সাবেক প্রধান বিচারপতি ‘প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে’ ‘পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে’ কথাটি বাদ দেন।”
প্রকাশ্য আদালতে দেওয়া রায়টি পরিবর্তন করে আসামি এ বি এম খায়রুল হক বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন বাদী।