Published : 31 Jan 2026, 05:42 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এ নোটিশ জারি করে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক।
বিএনপির সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনি কার্যালয়ে নূরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকজন সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, যা আচরণ বিধিমালার ৬ (ক) ধারার পরিপন্থি।
শোকজ নোটিশে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে শোকজ নোটিশ হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নুরুল হক নুর।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি মনে করি এখানে ঘটনাটা একজনে একটি অভিযোগ দিল… সেটা নিয়ে শোকজ না করে ন্যূনতমপক্ষে যাচাই-বাছাই করত।”
তিনি বলেন, “এখানে আমি দুটো জায়গায় হামলার শিকার হয়েছি, বকুলবাড়িয়াতে ও চরবোরহানে। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেই ঘটনা আমলে না নিয়ে উল্টো মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের শোকজ দেওয়া হল। আমি আইনগতভাবে জবাব দেব।
“কিন্তু আমি মনে করি যে যারা শোকজ দিয়েছেন তারাও আসলে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি”, বলেন নুর।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোট সমঝোতার কারণে নুরুল হক নুর বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে আছেন হাসান মামুন। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাকে সমর্থন করে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় হাসান মামুনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবং ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে তাতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে প্রচারণার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দুজন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছেন। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি রাতে নিজেদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায়ও উভয়ের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন দুই প্রার্থী।