Published : 20 Apr 2026, 06:06 PM
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেছে সাঁওতালরা।
সোমবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লী জয়পুর ও মাদারপুর থেকে শত শত সাঁওতাল তীর-ধনুক বাদ্যযন্ত্রসহ মিছিল করে গাইবান্ধা শহরে এসে এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ ও সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্রিটিশ সরেন, সাঁওতাল নেত্রী অঞ্জলি মুরমু, তৃষ্ণা মুরমু, সাঁওতাল বিমল বেসরা, রিপন বেসরা জয়।
আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, ১২ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্ম এলাকায় সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সাঁওতাল-বাঙালিদের জমি ফেরত ও তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা হয়।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, “ওই এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু স্বপন শেখ, আতাউর রহমান সাবু, আব্দুর রউফ বাবু ও মোহালাইন প্রধানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত লাঠি এবং ধারালো অস্ত্রসহ ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর এই হামলা করে। এতে নারীসহ ছয় সাঁওতাল আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত শিউলী মারডি, লুকাস মুরমু, মামালি হাসদা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।”
সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা বলেন, “এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করা হয়। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেননি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে তারা (সাঁওতাল) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
অবস্থান কর্মসূচিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে থানায় দাখিল করা এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং সাঁওতালদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।
শেষে সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীনের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।