Published : 21 Nov 2025, 02:37 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা ফজলুল হক হল ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে। পাশপাশি হলের বিভিন্ন দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
এতে আতঙ্কিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের অন্য হলে স্থানান্তর ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পুনর্নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
শুক্রবার সকালে শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। পরে দুই উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে হল পরিদর্শনে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলছে, ভূমিকম্পে হলের পশ্চিমাংশ হেলে পড়েছে এবং দেয়াল, সিঁড়ি ও করিডরসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও পুরোনো ফাটলগুলোও বড় হয়েছে বলে দাবি তাদের।
শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, “আজকের ভূমিকম্পে আগের সংস্কার করা জায়গাগুলোও ফেটে গেছে। এখন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী জীবন ঝুঁকিতে আছে।”
হলটা অনেক আগে থেকেই বসবাস অযোগ্য দাবি করে তিনি বলেন, “কিন্তু প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে। আমাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হোক এটাই আমাদের দাবি।”
শেরে বাংলা হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ হাসান জেমস বলেন, “রাতে ঘুমানোর সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা ভেঙে পড়ার ঘটনা আগেও হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকে তিনতলা থেকে লাফ দেওয়ার কথা ভেবেছে।
“আমরা বাঁচতে চাই, আমাদেরকে যেন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।”

রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “এ বিষয়ে যদি প্রশাসন সিদ্ধান্ত না দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে জিনিসপত্র নিয়ে নতুন হলে স্থানান্তর হবে। এখন এই হলে থাকা নিরাপদ নয়।”
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন,“ভূমিকম্পের পর গিয়ে আমরা অসংখ্য ফাটল দেখেছি। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। জুমার নামাজের পর বৈঠকে বসে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “হলের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। বুয়েট বা রুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞ এনে ঝুঁকির মাত্রা যাচাই করা হবে। ঝুঁকি নিশ্চিত হলে হল রি-অ্যালোকেশনের ব্যবস্থা করা হবে।”