Published : 10 May 2026, 03:09 PM
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন।
এ জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বেগমপুর এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন-বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম (৩০)।
পুলিশ বলছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদসহ বিভিন্ন অনলাইনসংক্রান্ত কাজ করেন। গত বৃহস্পতিবার, বিধিবহির্ভূতভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে বলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগ করেন অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি।
পরে অভিযোগ যাচাই বাছাই করে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ প্রদান করা হতো।
সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
ওসি বলেন, “দর্শনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তাররা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন।”