Published : 28 Jun 2026, 05:06 PM
যে ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় ফিরে এসেছিল ‘গিহনের কলঙ্কের’ স্মৃতি, সেই ম্যাচ উপহার দিল ধুন্ধুমার লড়াই। ৩-৩ ড্র হলো অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচ। দুই দল উঠল উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচের মনে হচ্ছে, পাগলাটে এক ম্যাচ হয়েছে ক্যানসাস সিটিতে।
স্কোরলাইন অবশ্য তুলে ধরতে পারছে না রোমাঞ্চের পুরোটা। দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রিয়া, দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুইবারই সমতায় ফিরে আলজেরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচ জমে ওঠে আরও। রিয়াদ মাহরেজের গোলে এগিয়ে জয়ের প্রবল সম্ভাবনা জাগায় আলজেরিয়া। কিন্তু নাটকীয়তার তখনও বাকি। শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে সাশা কালাইজিচ সমতা ফেরান।
এই ড্রয়ে, ছিটকে যাওয়ার শঙ্কার মেঘ সরিয়ে, ‘জে’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে অস্ট্রিয়া। তৃতীয় স্থান অধিকারী সেরা আট দলের একটি হয়ে গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে আলজেরিয়াও। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় পেতকোভিচ বললেন, স্নায়ুর চাপ সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ম্যাচটি।
“একটু পাগলাটে ম্যাচ… যেন সবার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা বিশ্রাম নেব এবং এরপর নকআউট পর্বের ম্যাচ নিয়ে আবারও ভাবতে বসব।”
সেরা বত্রিশের লড়াইয়ে আলজেরিয়া মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। পেতকোভিচ সুইজারল্যান্ডের কোচ ছিলেন ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। সুইসদের সম্পর্কে তাই ভালো জানাশোনা আছে তার।
“সুইজারল্যান্ড দারুণ একটি দল… আমি তাদের জানি। যদিও তাদের দলে নতুন মুখ আছে, তবে তাদের কয়েকজন আমার সঙ্গে খেলেছে। তো আমি এই খেলোয়াড়দের চিনি।”
ক্যানসাস সিটির দ্বৈরথের আগে আলোচনায় ছিল, ১৯৮২ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও পশ্চিম জার্মানির গিহনে হওয়া সেই ম্যাচটি। যে ম্যাচে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে’ পশ্চিম জার্মানি জিতেছিল বলে অভিযোগ করা হয় এবং ফুটবলের ইতিহাসে ম্যাচটি ‘গিহনের কলঙ্ক’ বলে পরিচিত।
সেবার, ওই ম্যাচের ফলে আলজেরিয়াকে বিদায় নিতে হয়েছিল স্পেনের বিশ্বকাপ থেকে। অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিককে ড্র ফল নিয়ে ‘আঁতাত’ হয়েছে কিনা, এমন তীর্যক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। পেতকোভিচ অবশ্য ফুটবলের জয় দেখছেন এই স্কোরলাইনে।
“দিনশেষে ফুটবল জেতায় আমি ভীষণ খুশি। ৩-৩ স্কোরলাইন সব বলে দিচ্ছে।”