Published : 10 Oct 2025, 02:38 PM
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এতে এক শিশু নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে গাছের মগডাল থেকে নামিয়ে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে দশমিনা থানার ওসি আব্দুল আলীম জানিয়েছেন।
আটক ৩০ বছর বয়সী সবুজ মৃধা একই এলাকার আবু মৃধার ছেলে।
তিনি ‘মাদকাসক্ত’ ও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
নিহত আট বছর বয়সী ওই শিশুর নাম সাফায়েত হোসেন। সে একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মুহিত হাসান (৮) ও তার মা মরিয়ম (২৮), পঞ্চম আলী সরদার (৪৭), বাবুল সরদার (৪৭) এবং নাছিমা বেগম (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে সবুজ বাড়িতে ঢুকেই সামনে যাকে পায়, তাকেই দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে ছয়জন গুরুতর জখম হয়। পরে আহতদের চিৎকারে এলাকার লোকজন সবুজকে ধরতে গেলে সে গাছের মগডালে উঠে আশ্রয় নেয়।
বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসক সাফায়েত ও মুহিত হাসান এবং তার মা মরিয়মকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে নেওয়ার পথে সাফায়েতের মৃত্যু হয়।
পরে মুহিত ও মরিয়মকে বরিশালে নেওয়া হয়। আহত বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিহত সাফায়াতের বাবা জামাল হোসেন বলেন, “বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাউফল উপজেলার বগা ফেরীঘাট এলাকার আমার ছেলের মৃত্যু হয়।
“ঘটনার পর সবুজ নিজে গাছের মগডালে আশ্রয় নিয়ে তার হাতে থাকা দা দিয়ে নিজের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটাকাটি করেছে। যে কারণে তাকে পুলিশি হেফাজতে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
চরহোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা কবির চৌকিদার বলেন, “সবুজ ওরফে মনির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানষিক ভারসাম্যহীন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে তাদের বাড়ির শিশু, নারী ও পুরুষসহ ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে দৌড়ে একটি গাছে ওঠেন।
“স্থানীয়রা থানায় ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে তাকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা করে। পরে রাত প্রায় সোয়া ৯টার দিকে স্থানীয় এক যুবক গাছে উঠে সুবজকে জোড় করে ধরে দঁড়িতে বেঁধে নিচে নামায়।”
নিহত সাফায়েত চাচা মো. আনছার মৃধা বলেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নেব। তবে একটু দেড়ি হবে কারণ আমার ভাতিজার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। এরপরে তার লাশ দাফন করতে হবে।”
দশমিনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সবুজ মৃধা ৬৫ থেকে ৭০ ফুটের লম্বা একটি চাম্বল গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। এ সময় কয়েকটা গাছ পাশাপাশি থাকায় সে গাছ পরিবর্তন করে নিরাপদে চলে যায়।
“পরে চারটি গাছ কাটা হয়। চার ঘণ্টার চেষ্টার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নিচে নামানো হয়।”
নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওসি আব্দুল আলীম জানান।