Published : 29 Jan 2026, 12:37 AM
বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বুধবার দুপুরে যশোর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান এই ছাত্রনেতা।
জামিনে বেরিয়ে এদিন সন্ধ্যায় তিনি বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে ফিরে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের সন্তান নাজিফ হাসানের কবর জিয়ারত করেন।
ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি সাদ্দাম। জুলাই আন্দোলনের সময়কার মামলায় গত বছরের এপ্রিল থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
এর মধ্যে গেল শুক্রবার বিকালে সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন সাদ্দামের শ্বশুর।
তবে স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধারের খবর পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি সাদ্দাম।
শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের সন্তান ও স্ত্রীর লাশ নেওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তাদের শেষবারের মত ছুয়ে দেখেন তিনি। এরপর আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় শরিক হতে সাদ্দামকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায়’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে সোমবার উচ্চ আদালত সাদ্দামের ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আসিফ উদ্দীন রাতে সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার দুপুর ২টার পর উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশের কপি হাতে পেয়ে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জামিনে বেরিয়ে সাদ্দাম রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হই। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাগেরহাটের অন্তত ১১টি মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
“আমার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, প্রতিটি মামলার সময় আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলাম। আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে দেশে ফিরতাম না। আদালতে পাসপোর্ট দেখিয়েও আমার জামিন হয়নি।
“আমাকে জামিনে বের করার জন্য আমার স্ত্রী স্বর্ণালী আদালতের দ্বারে দ্বারে দৌঁড়ে বেড়িয়েছে। একপর্যায়ে আমার জামিন করাতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।”
তিনি বলেন, “আমি ছাত্রলীগের একজন সাধারণ কর্মী। মামলায় জেলে যাওয়ার পর আমাকে তিন মাস সেলবন্দি করে রাখা হয়েছে। আমি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিক অধিকার পেয়ে থাকে। জেলবন্দিরা ফোনে কথা বলার সুবিধা পেয়ে থাকে। আমি সেই সুবিধা পাইনি। আমাকে যদি ফোন কলের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমার হতাশাগ্রস্ত স্ত্রীকে বুঝাতে পারতাম, শান্ত্বনা দিতে পারতাম।
“আমাকে বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোরের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যার কারণে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী দেখা করতে পারেনি। যশোর কারাগারে থাকার কারণে আমার স্ত্রী ধরে নিয়েছে, আমি মনে হয় আর কোনো দিন ছাড়া পাব না “
স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পাইনি, তার লাশ ধরতে পারিনি। তাদের পাশে থাকতে পারিনি।
“আজ স্ত্রী সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমার জামিনটা হলো। আমার মতো যেন আর কোন মানুষের এমন ক্ষতি না হয়। জেলবন্দিরা যেন তার পরিবারের সঙ্গে স্বাক্ষাতের সুযোগ পায়।”