Published : 21 Sep 2025, 01:54 PM
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তা মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় দুই হাজার আবাসিক গ্রাহককে।
এছাড়া মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১০টি কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। জেনারেটর না চালাতে পারায় ব্যহত হচ্ছে কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।
শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে মির্জাপুর মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের পাইলিং করার সময় হঠাৎ গ্যাসের পাইপে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খননযন্ত্রের আঘাত লাগে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সম্ভু রাম পাল।
তিনি বলেন, খননযন্ত্রের আঘাতে পাইপ ফেটে গ্যাস বের হতে থাকে। খবর পেয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি লাইন মেরামতের জন্য লোকজন আসেন। রোববার সকাল পর্যন্ত লাইন মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকায় মির্জাপুরের সোহাগপুর থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার ২ হাজার আবাসিক গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গ্রাহকেরা কেউ কোনোরকমে মাটির চুলায় রান্না করে খাচ্ছেন। কেউ প্রতিবেশিদের সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা ব্যবহার করছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়। যা তেলের জেনারেটরে সম্ভব হয় না। গ্যাসের সংযোগ বন্ধের পর থেকে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হয়েছে।
এ ছাড়া গ্যাস না থাকায় কুমুদিনী হাসপাতালসহ কমপ্লেক্সে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সম্ভু রাম পাল বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থানে গ্যাসের পাইপ লাইন আছে তা তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে।
তিতাস টাঙ্গাইলের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, “ওই স্থানে গ্যাস লাইনের পাইপ রয়েছে বিষয়টি সবাই জানা স্বত্ত্বেও মডেল মসজিদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানায়নি।
“পাইপ ফেটে যাওয়ার পর আমাদের অন্তত ২ হাজার আবাসিক ও ১০টি কারখানার গ্রাহককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে”, বলেন তিনি।
পাইপটি মেরামতের জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, “ফেটে যাওয়া লোহার পাইপটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। পাইপটি মাটির অন্তত ৩০ ফুট নীচে অবস্থিত।”
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, “তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত মেরামত করে সংযোগ চালু করা হবে।”