১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলায় ঘর হারিয়ে ৪০ হিজড়ার ডিসি অফিসের বারান্দায় আশ্রয়

শেরপুরের আন্ধারিয়া সূতিরপাড় হিজড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় ঘর হারিয়ে ৪০ হিজড়ার ডিসি অফিসের বারান্দায় আশ্রয়
হামলার মুখে বিতাড়িত হিজড়ারা শেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Sep 2024, 08:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

শেরপুর সদর উপজেলায় হামলা করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে ৪০ হিজড়াকে বিতাড়িত করার অভিযোগ ওঠেছে। তারা এসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।  

বুধবার রাতে উপজেলার আন্ধারিয়া সূতিরপাড় হিজড়া আবাসন প্রকল্প ‘স্বপ্নের ঠিকানায়’ এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুল হাসান জানান।   

বৃহস্পতিবার দুপুরে হিজড়ারা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে মানববন্ধন করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। 

শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার বলেন, সরকার তিন বছর আগে হিজড়াদের আবাসন প্রকল্প করে দেয়। সেখানে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার আবুল কালাম আজাদ, হাসান মিয়া ও ফরিদুলসহ কিছু মানুষ আবাসনের জমির মালিকানা দাবি করে হিজড়াদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছিল। 

“৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আরও বেশি হুমকি দিতে থাকে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালাম, হাসান ও ফরিদুলের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মানুষ আবাসনে হামলা, ভাঙচুর করে হিজড়াদের মালামাল ও টাকা লুট করে নিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “৪০ জন হিজড়া কোনোমতে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে সারা রাত কাটান। এখন পর্যন্ত আমরা এখানেই আছি। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার ও পুনর্বাসন চাই।”

শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান বলেন, “হিজড়াদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে কর্মরত সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। 

“রাতের বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।  তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন পদক্ষেপে যাবো। সরকার তাদের পুনর্বাসন করেছে, এখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।”