Published : 22 Oct 2025, 05:59 PM
ফ্যাশনের জগতে পুরানো সময় বারবার ফিরে আসে। নব্বইয়ের দশকের ও একবিংশ শতাব্দী অর্থাৎ ২০০০ সাল শুরুর পরের বছরগুলোর অনেক কিছুই আবার নতুন রূপে হাজির হচ্ছে।
এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে পকেট দেওয়া কার্গো প্যান্ট। একসময় কেবল ‘স্ট্রিট স্টাইল’ হিসেবে পরিচিত এই পোশাকটি এখন আধুনিক ‘ওয়ার্কওয়্যার’য়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
“কয়েক বছর আগে কার্গো প্যান্ট আবার ফ্যাশন জগতে ফিরে আসে। তবে এখন এটি কেবল স্ট্রিট স্টাইল নয়, বরং হয়ে উঠেছে কার্যকর ও নিত্য ব্যবহারযোগ্য পোশাক। এ পোশাক যা নানা উপলক্ষেও মানিয়ে যায়”- রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন মার্কিন স্টাইল বিশেষজ্ঞ লরেন শার্কি।
তবে কার্গো প্যান্টের বাড়তি পকেট ও উপকরণের কারণে এটিকে সঠিকভাবে পরা বা মিলিয়ে নেওয়া অনেকের কাছেই কিছুটা চিন্তাভাবনার বিষয়।
শার্কি বলেন, “কার্গো প্যান্ট কেনা ও পরার ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি। কারণ এর গঠন ও ডিজাইন সাধারণ প্যান্টের মতো নয়।”
কাপড়ের ধরন বুঝে বেছে নিন
কার্গো প্যান্ট সুতি, ডেনিম, উল, কিংবা সাটিনসহ নানান ধরনের কাপড়ে পাওয়া যায়। কোথায় এই প্যান্ট পরা হবে তার ওপরই নির্ভর করবে কাপড়ের নির্বাচন।
যেমন- দৈনন্দিন সাধারণ ব্যবহারের জন্য সুতির কার্গো প্যান্ট সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এটি হালকা, আরামদায়ক ও সহজে মানিয়ে যায়। সাদা টি-শার্ট বা শার্ট সঙ্গে কটন কার্গো প্যান্ট পরলে নিখুঁত ক্যাজুয়াল লুক তৈরি হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন ডিজাইনার নিকোল মিলার বলেন, “সাটিনের মতো হালকা কাপড় সুন্দরভাবে মিশে যাবে এবং এতে বাড়তি ভলিউমও কম দেখাবে।”
তাই যদি পরিশীলিত বা কিছুটা ‘এলিগ্যান্ট লুক’ পছন্দ হয় তবে সাটিন কার্গো প্যান্ট হতে পারে ভালো বিকল্প।
পকেটের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ
কার্গো প্যান্টের পকেট সাধারণত দুই পাশের দিকে থাকে। তবে বর্তমানে কিছু ডিজাইনে সামনের দিকে, এমনকি দুই জায়গাতেই পকেট রাখা হয়।
শার্কি বলেন, “কোন অবস্থানটি শরীরের গঠনে বেশি মানায়, তা পরীক্ষা করে দেখাই সবচেয়ে ভালো।”
কারণ পকেটের অবস্থানই নির্ধারণ করে পোশাকটিতে নিজেকে ভারী নাকি হালকা দেখাবে। তাই কেনার আগে কোন ডিজাইন বেশি মানানসই তা দেখে নিতে হবে।
লম্বা না ছোট— নির্ভর করবে নিজের স্টাইলের ওপর
কার্গো প্যান্ট কখনও পুরো লম্বা আবার কখনও গোড়ালি পর্যন্ত ছোট হয়।
যদি হিল পরার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে গোড়ালি দৈর্ঘ্যের প্যান্ট সবচেয়ে ভালো মানায়। পায়ের অংশে সামান্য পরিবর্তন সব সময়ই স্টাইলের জন্য ভালো কাজ করে।
কিছু কার্গো প্যান্টে নিচের দিকে দড়ি বা ফিতা থাকে, যা টেনে ছোট করেও পড়া যায়। ফলে পায়ের সঙ্গে আঁটসাঁট বা ঢিলা দুটোভাবেই স্টাইল করা সম্ভব হয়, যা জুতার ধরন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া সহজ করে তোলে।
জুতার ধরন ঠিক রাখা
কার্গো প্যান্ট পরার সময় পোশাকের অনুপাত বোঝা সবচেয়ে জরুরি। জুতার ক্ষেত্রে সরলতা বজায় রাখাই ভালো।
ভারী স্নিকার বা প্ল্যাটফর্ম জুতা কার্গোর ভারী গঠনের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে। নরম বা নারীত্বপূর্ণ ডিজাইনের ফ্ল্যাট কিংবা সাদামাটা লোফার বেছে নিলে ভালো লাগবে।
এতে কার্গোর ভারসাম্যও বজায় থাকে এবং দৃশ্যত আরও সুশৃঙ্খল হয়।
টপস’য়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখা
শুধু নিচের পোশাক নয়, কার্গো প্যান্টের সাথে ওপরের পোশাকের সঠিক মিলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মক্ষেত্র থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার আয়োজন সব জায়গাতেই ভালো লাগবে এমন ‘লুক’ পেতে সুতি, সিল্ক টপ বা ফতুয়া পরা ভালো।
কার্গো প্যান্টের সঙ্গে পাতলা ভেস্ট পরা যায়। এটি আধুনিক অফিস ফ্যাশনের একটি নতুন রূপ দেয়।
“আর নারীত্বপূর্ণ সাজে যেতে চাইলে সাটিন কার্গো প্যান্টের সঙ্গে সিল্ক ধরনের শার্ট, মাঝারি লম্বার ফতুয়া দুপুরের খাবার আয়োজন বা বিকেলের আড্ডায় দারুণ মানিয়ে যাবে”- বলেন শার্কি।
আরও পড়ুন