মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাই কমিশনার-সাংবাদিক বৈঠক

বৈঠকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হাই কমিশনার মো. শামীম আহসান।

রফিক আহমদ খানকুয়ালালামপুর থেকে
Published : 20 Feb 2024, 08:18 AM
Updated : 20 Feb 2024, 08:18 AM

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের নানা সমস্যা নিয়ে হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা প্রবাসী সাংবাদিকরা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে কুয়ালালামপুরে হাই কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হাই কমিশনার মো. শামীম আহসান।

প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট, কলিং ভিসায় নতুন আসা কর্মীরা কাজ না পাওয়া, নতুনদের সময়মতো বেতন না পাওয়া এবং অবৈধ হয়ে পড়াসহ সমস্যাগুলো তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

তারা জানান, মালয়েশিয়ায় গত দুবছর অবৈধদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া চালু ছিল, সেটি বন্ধ হতে যাচ্ছে আসছে ৩০ মার্চ। পহেলা মার্চ থেকে মালয়েশিয়া সরকার চালু করতে যাচ্ছে অবৈধদের জরিমানা দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার সুযোগ। নতুন পুরনো সব প্রবাসীর আগ্রহ, মালয়েশিয়ায় কখন চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা।

এ প্রসঙ্গে হাই কমিশনার বলেন, “মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্টের আবেদন শুরু হবে বলে আশা করছি। ২০২৩ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে প্রবাসীদের জন্য মোট ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২টি পাসপোর্ট (এমআরপি) ইস্যু করা হয়েছে।”

কলিং ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, “আমরা যদি অভিযোগ পাই, তাহলে তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। কখনো একটু সময় লেগেছে, কিন্তু সমাধান হয়েছে। অর্থাৎ নিয়োগকর্তা কাজের ব্যবস্থা করেছেন। নিয়োগকর্তারা দূতাবাসের চাপ অনুভব করেন। মালয়েশিয়ার সরকার-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয় এ বিষয়ে। তাদেরও চাপ থাকে নিয়োগকর্তা যেন বাংলাদেশ থেকে আনা কর্মীদের জন্য তার ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকু পালন করেন।”

মালয়েশিয়ায় নতুন আসা প্রবাসীদের সংকট নিয়ে হাই কমিশনার বলেন, “আমাদের নিজস্ব কিছু মেকানিজম আছে, তাতে যেখানে সমস্যা হয়, আমরা জেনে যাই। এখানে ১২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন। সব জানা আক্ষরিক অর্থে আমাদের পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে। আপনারা সাংবাদিকরা জানলে আমাদের নজরে আনবেন, আমরা ব্যবস্থা নেবো।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, “যেসব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী এনে কাজ দিতে গড়িমসি করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, সেসব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে লোক আনার জন্য দ্বিতীয়বার চাহিদাপত্র নিয়ে আসলে আমরা অনুমোদন দিচ্ছি না। তাদেরকে আগে সংশোধন হতে বলছি, যাচাই-বাছাই করছি, তদন্ত করছি। আমরা সন্তুষ্ট হলে তারপর অনুমোদন দিচ্ছি।”

মালয়েশিয়া সরকার দেশটিতে বসবাসরত বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশিকর্মীদের ৩০০ রিঙ্গিত থেকে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে স্বদেশে ফিরে পাওয়ার জন্য সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী পহেলা মার্চ থেকে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে হাই কমিশনার শামীম আহসান বলেন, “যারা অবৈধ আছেন, তাদের জন্য গত দুই বছর মালয়েশিয়া সরকারের বৈধকরণ প্রক্রিয়া রিক্যালিব্রেশন চালু ছিল। যারা নানা কারণে এই সুযোগও গ্রহণ করতে পারেননি, তাদের দেশে ফেরত যাওয়া উচিত।”

অবৈধদের দেশে ফেরত যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “যদিও অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে তারা মালয়েশিয়া এসেছেন, তবে অবৈধভাবে থাকাটা মানসিক যন্ত্রণার এবং অনেক উদ্বেগের। মালয়েশিয়া থেকে দেশে চলে যেতে চাইলে যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের হাই কমিশন থেকে ট্রাভেল পাস নিতে হবে। এর মধ্যে যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, হাতে টাকা নেই, তাদেরকে আমরা কোনো চার্জ ছাড়া ট্রাভেল পাস দেবো।”

মালয়েশিয়ার জেলখানায় থাকা প্রবাসীদের বিষয়ে হাই কমিশনের লেবার উইং থেকে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান মো. শামীম আহসান। তিনি জানান, হাই কমিশনের প্রতিনিধি নিয়মিত হাজত ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে থাকেন। সাজা শেষ পর্যায়ে থাকা প্রবাসীদের দেশে ফেরার সময় কারো সাথে নগদ টাকা লেনদেন না করে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু এয়ারটিকিট দেওয়ার জন্য তাদের পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনকে আহ্বান জানান হাই কমিশনার।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাই কমিশনার বলেন, “মালয়েশিয়া বাংলাদেশে অষ্টম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলারের মতো। মালয়েশিয়া আমাদের কাছের দেশ, এজন্য প্রবাসীরা এই দেশকে আপন করে নিয়েছেন।”

মালয়েশিয়ায় আসতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে হাই কমিশনার বলেন, “যারা কাজের জন্য মালয়েশিয়া আসবেন, তারা বৈধভাবে আসবেন। একটু খোঁজখবর নিয়ে আসবেন। এখানে অনেক বাংলাদেশি আছেন। তাদের কারো মাধ্যমে কোম্পানির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আসবেন। হাই কমিশন প্রবাসীদের যে কোনো প্রয়োজনে সেবা প্রদানে সচেষ্ট আছে এবং থাকবে।”

বৈঠকে হাই কমিশনারের সঙ্গে কাউন্সেলর (কনস্যুলার) জি এম রাসেল রানা, কাউন্সেলর (শ্রম) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মিয়া মোহাম্মাদ কেয়ামউদ্দিন এবং প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ উপস্থিত ছিলেন।