২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে আগুনে পুড়ল শত বিঘা জমির পান বরজ

পান চাষিরা বলছেন, সিগারেটের আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

রাজশাহী অফিস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2025, 03:37 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:05 PM

রাজশাহীর বাগমারায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর ৫৩টি পান বরজ আগুন ভস্মীভূত হয়েছে; নিঃস্ব হয়েছেন অর্ধশত পান চাষি। 

পান চাষিরা বলছেন, সিগারেটের আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। 

শুক্রবার দুপুরে বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের পোড়াকয়া গ্রামের মাঠে হঠাৎ করেই ইসাহাকের পান বরজে আগুন দেখা যায়। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের পান বরজে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তার হামিদ খান বলেন, রাজশাহী, বাগমারা, মোহনপুর ও আত্রাইয়ের চারটি ইউনিট ঘণ্টাখানেক চেষ্টায় পান বরজের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

“আগুনে অর্ধশত কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এবং কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা জানা যায়নি। তদন্তের পর সেটি জানা যাবে।”

গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন, “মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে চাষিদের কোটি টাকার পান পুড়ে গেছে। আমরা চাষিদের তালিকা করতে বলেছি। শনিবার তালিকাটা হাতে পাব।” 

তিনি বলেন, “তালিকা পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যামে তা জেলা প্রশাসককে পাঠানো হবে। সরকারিভাবে কিছু টাকা পেলে এই চাষিদের উপকার হবে। এ ঘটনায় অনেক চাষি একবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।” 

পান চাষি আসাদুল ইসলাম বলেন, এই আগুনে অনেক চাষির এক বিঘা থেকে দেড় বিঘা করে পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

“আগুনে এমনভাবে পুড়েছে, তাতে বরজের কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই। সব বরজ নতুন করে তৈরি করতে হবে। আমার আড়াই বিঘা জমির পান পুড়ে গেছে।”

আসাদুল বলেন, বছরের এই সময়ে পানের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে। এখন বাজারে নতুন পান বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পোয়া। আর পুরোনো পান বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পোয়া দরে।

“এই সময় পানের বরজ পুড়ে যাওয়া মানে চোখের সামনে টাকা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া।” 

পানচাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, তার এক বিঘার বেশি জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই বরজ তৈরি করতে আবার শীত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া পানের বরজ পরিদর্শন করেছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির তালিকা করতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

“চাষিরা বলেছেন, সিগারেটের আগুন থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।”