Published : 25 May 2026, 10:14 AM
ইতালি থেকে নিজ দেশে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে আবারো শীর্ষস্থান দখল করেছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
২০২৫ সালে ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীরা মোট ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো নিজ দেশে পাঠিয়েছেন, যার একটি বড় অংশই গেছে বাংলাদেশে।
সম্প্রতি ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংকা দি ইতালিয়া’ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফন্ডাজিওনে লেওনে মোয়ারেসা’র যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইতালি থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
এটি ইতালি থেকে পাঠানো মোট রেমিটেন্সের ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। রেমিটেন্স পাঠানোর এ তালিকায় বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত ও মরক্কোর অবস্থান।
এ বিষয়ে মিলানে নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল রফিকুল আলম প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের জন্য গৌরবের বিষয় যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠাতে আমরা প্রবাসীদের সবসময় উৎসাহিত ও সচেতন করার চেষ্টা করি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসীদের দেশপ্রেম ও আগ্রহ এ ধারাকে সচল রেখেছে।”
কনসাল জেনারেল জানান, ইতালি থেকে রেমিটেন্স পাঠানোয় ২০১৯ সাল থেকে টানা ৬ বছর বাংলাদেশ এক নম্বরে রয়েছে। এর আগে সাধারণত ফিলিপাইন ও রোমানিয়া শীর্ষে থাকলেও ২০১৯ সালে ৬৬২ মিলিয়ন ইউরো পাঠিয়ে তাদের ছাড়িয়ে যান বাংলাদেশি প্রবাসীরা।
তারপর ২০২০ সালে ৭০১ মিলিয়ন, ২০২১ সালে ৮৭৫ মিলিয়ন এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালে নিয়মিতভাবে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা। ফলে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো পাঠানোর এ অর্জন মূলত গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রগতি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইতালিতে বসবাসরত একজন অভিবাসী গড়ে প্রতি মাসে ১৩৪ ইউরো নিজ দেশে পাঠান। তবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এই হার বহুগুণ বেশি।
একজন বাংলাদেশি গড়ে মাসে ৬৫৪ ইউরো দেশে পাঠান, যা দেশটিতে বসবাসরত যেকোনো বিদেশি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ফিলিপাইনের নাগরিকরা মাসে গড়ে ৩০০ ইউরোর বেশি অর্থ দেশে পাঠান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক (হুন্ডি বা অন্যান্য মাধ্যম) রেমিটেন্স যোগ করলে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ৯ দশমিক ৯ থেকে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। এ পরিমাণ অর্থ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তায় ইতালির সরকারি ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
ইতালির লোম্বার্দিয়া অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স পাঠানো হয়েছে, ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এরপরই রয়েছে লাৎসিও ও এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চল। শহর হিসেবে রোম ও মিলান থেকেই মোট রেমিটেন্সের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পাঠানো হয়েছে।
গত এক দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের রেমিটেন্স ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও রোমানিয়া, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের প্রবৃদ্ধি ছিল ধীর। তবে সবচেয়ে নাটকীয় পতন দেখা গেছে চীনের ক্ষেত্রে। ২০১১-১২ সালে যেখানে চীন ৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রেমিটেন্স নিত, ২০২৫ সালে তা কমে মাত্র ৪ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।